দুই ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে তোলপাড়
- Update Time : ০৫:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৬৮ Time View

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এক নারী শিক্ষিকা নিজের অধীনস্থ দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে নিন্দা ও আলোচনার ঝড় বইছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাইলা ব্রেইলি (৩০) নামের ওই শিক্ষিকা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর ছাত্রকে শয্যাসঙ্গী করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন পত্রিকা দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর খবরে জানানো হয়, আগস্ট মাসে প্রথম অভিযোগ উঠে যে, ব্রেইলি তার এক ছাত্রকে এমনভাবে স্পর্শ করেছিলেন, যা যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, তিনি আরেকজন ১৬ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গেও যৌন অসদাচরণে জড়িত ছিলেন। আদালতে জমা দেওয়া ডকুমেন্টে এসব অভিযোগের বিস্তারিত বর্ণনা থাকলেও অনেক তথ্য প্রকাশ করা নৈতিক ও আইনগত কারণে জটিল বলে গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রথম যে ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়, তাকে নানা কৌশলে প্রলুব্ধ করেছিলেন ব্রেইলি। শুরুতে সাধারণ আলাপচারিতা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তেজনামূলক কথাবার্তা এবং শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে সেই সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়, যা ঘটেছিল বিদ্যালয়ের ভেতরেই।
গত বুধবার সকালে মামলার সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ব্রেইলিকে সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে হাজির করা হয়। সেদিন আদালতে তার পিতা-মাতা ও বোন উপস্থিত থেকে মানসিক সহায়তা দেন। তবে শুনানি হওয়ার পরিবর্তে আবারও মামলার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
এর আগে জুলাই মাসে এবং চলতি মাসের শুরুতে মামলার শুনানি নির্ধারিত থাকলেও দু’বারই স্থগিত করা হয়েছিল। ব্রেইলির আইনজীবী ববি হিল জানান, অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হবে। তার মতে, ঘটনাগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং সঠিক তথ্য যাচাই না করেই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
এই মামলা অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক সবসময় আস্থাভিত্তিক হওয়া উচিত। সেখানে যদি কোনো ধরনের যৌন অসদাচরণ ঘটে, তবে তা কেবল আইনভঙ্গই নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে নড়বড়ে করে তোলে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে এমন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোররা অনেক সময় সামাজিক চাপ, লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগতে থাকে, যা ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষা, পেশা ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।
শিক্ষিকা ব্রেইলি বর্তমানে জামিনে আছেন, তবে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত রাখা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।











