সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ইহুদিরা মার্কিন রাজনীতিতে অর্থায়ন করে’—বিতর্কিত মন্তব্যে কানাডার সাংবাদিক বরখাস্ত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১২৪ Time View

5823ca8345877d259d21b71584473a73 68ca950bcb66f

5823ca8345877d259d21b71584473a73 68ca950bcb66f

কানাডার জাতীয় পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস রেডিও-কানাডা তাদের এক প্রতিবেদককে চাকরিচ্যুত করেছে। অভিযোগ—তিনি সম্প্রচারে ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির মতে ‘গোঁড়ামিপূর্ণ, বৈষম্যমূলক ও সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী’।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতের একটি টকশোতে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কাতারে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই প্রতিবেদক বলেন, ইসরায়েলিরা, প্রকৃতপক্ষে ইহুদিরা, আমেরিকান রাজনীতিতে প্রচুর অর্থায়ন করে। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিরাজমান।”

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ শহরগুলো এবং বিনোদন শিল্প তথা হলিউড ইহুদিদের প্রভাবাধীন। এই বক্তব্য সম্প্রচারের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্যগুলোকে পুরোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ইহুদি-বিরোধী প্রোপাগান্ডার পুনরাবৃত্তি বলে আখ্যা দেন।

পরদিন মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রেডিও-কানাডা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বরখাস্ত করে। সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের মন্তব্য ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভুল, পক্ষপাতদুষ্ট ক্ষতিকারক ধারণা ছড়ায়। এগুলো সাংবাদিকতার মান চর্চার সরাসরি লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই রেডিও-কানাডার অবস্থান প্রতিফলিত করে না।”

বিতর্ক আরও তীব্র হলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সেদিনই দেশটির ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন। এ ঘটনাকে ঘৃণা ও বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার আশঙ্কাজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কানাডার সংস্কৃতিমন্ত্রী স্টিভেন গিলবিল্টও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, গত রাতের সম্প্রচারে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ছিল ক্ষতিকর ইহুদি-বিরোধী ট্রোপ। কানাডার গণমাধ্যমে এর কোনো স্থান নেই। যখন সাংবাদিকরা ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন, তখন ঘৃণাকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি দেখা দেয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে পশ্চিমা গণমাধ্যমে জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠী নিয়ে মন্তব্য করার সময় অতিসতর্ক থাকতে হয়। কারণ ইহুদি-বিরোধিতা (Antisemitism) পশ্চিমা সমাজে এক সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে কোনো নেতিবাচক সাধারণীকরণ গণমাধ্যমে সহনীয় নয়।

রেডিও-কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকদের জন্য পেশাগত আচরণবিধি পুনর্নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ইহুদিরা মার্কিন রাজনীতিতে অর্থায়ন করে’—বিতর্কিত মন্তব্যে কানাডার সাংবাদিক বরখাস্ত

Update Time : ০৫:২১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

5823ca8345877d259d21b71584473a73 68ca950bcb66f

কানাডার জাতীয় পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস রেডিও-কানাডা তাদের এক প্রতিবেদককে চাকরিচ্যুত করেছে। অভিযোগ—তিনি সম্প্রচারে ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির মতে ‘গোঁড়ামিপূর্ণ, বৈষম্যমূলক ও সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী’।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতের একটি টকশোতে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কাতারে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই প্রতিবেদক বলেন, ইসরায়েলিরা, প্রকৃতপক্ষে ইহুদিরা, আমেরিকান রাজনীতিতে প্রচুর অর্থায়ন করে। তাদের প্রভাব সর্বত্র বিরাজমান।”

তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ শহরগুলো এবং বিনোদন শিল্প তথা হলিউড ইহুদিদের প্রভাবাধীন। এই বক্তব্য সম্প্রচারের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্যগুলোকে পুরোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও ইহুদি-বিরোধী প্রোপাগান্ডার পুনরাবৃত্তি বলে আখ্যা দেন।

পরদিন মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রেডিও-কানাডা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বরখাস্ত করে। সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের মন্তব্য ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভুল, পক্ষপাতদুষ্ট ক্ষতিকারক ধারণা ছড়ায়। এগুলো সাংবাদিকতার মান চর্চার সরাসরি লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই রেডিও-কানাডার অবস্থান প্রতিফলিত করে না।”

বিতর্ক আরও তীব্র হলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সেদিনই দেশটির ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন। এ ঘটনাকে ঘৃণা ও বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার আশঙ্কাজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কানাডার সংস্কৃতিমন্ত্রী স্টিভেন গিলবিল্টও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, গত রাতের সম্প্রচারে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা ছিল ক্ষতিকর ইহুদি-বিরোধী ট্রোপ। কানাডার গণমাধ্যমে এর কোনো স্থান নেই। যখন সাংবাদিকরা ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন, তখন ঘৃণাকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি দেখা দেয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে পশ্চিমা গণমাধ্যমে জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠী নিয়ে মন্তব্য করার সময় অতিসতর্ক থাকতে হয়। কারণ ইহুদি-বিরোধিতা (Antisemitism) পশ্চিমা সমাজে এক সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে কোনো নেতিবাচক সাধারণীকরণ গণমাধ্যমে সহনীয় নয়।

রেডিও-কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকদের জন্য পেশাগত আচরণবিধি পুনর্নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।