সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিরছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, ডিসেম্বরে আয়োজনের প্রস্তুতি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৪৬ Time View

image 577219 1758032423

image 577219 1758032423

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। চলতি বছর থেকেই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরীক্ষা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

অংশগ্রহণের সুযোগ

স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাছাই করে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হবে।

পরীক্ষার কাঠামো

শিক্ষার্থীদের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে পাঁচটি বিষয়ে চারটি পত্রে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

  • বাংলা – ১০০ নম্বর
  • ইংরেজি – ১০০ নম্বর
  • গণিত – ১০০ নম্বর
  • বিজ্ঞান – ৫০ নম্বর
  • বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় – ৫০ নম্বর

বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের পরীক্ষা পৃথকভাবে নেওয়া হবে, তবে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একত্রে একটি পত্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ঘণ্টা। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।

পরীক্ষা ফি

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রতি শিক্ষার্থীকে ৬০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে বোর্ড ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রশ্ন ও ফল প্রক্রিয়া

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণ করে প্রতিটি জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র

প্রতিটি উপজেলা সদরে অন্তত একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক ও অবকাঠামোগতভাবে উপযুক্ত বিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে একাধিক কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থাও করা হবে।

style="text-align: justify;">নীতিমালায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই নীতিমালা জারি করেছে। তবে নীতিমালার কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনবোধে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

গুরুত্ব

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফিরছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, ডিসেম্বরে আয়োজনের প্রস্তুতি

Update Time : ১১:০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

image 577219 1758032423

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। চলতি বছর থেকেই অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরীক্ষা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

অংশগ্রহণের সুযোগ

স্বীকৃত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাছাই করে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হবে।

পরীক্ষার কাঠামো

শিক্ষার্থীদের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে পাঁচটি বিষয়ে চারটি পত্রে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

  • বাংলা – ১০০ নম্বর
  • ইংরেজি – ১০০ নম্বর
  • গণিত – ১০০ নম্বর
  • বিজ্ঞান – ৫০ নম্বর
  • বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় – ৫০ নম্বর

বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের পরীক্ষা পৃথকভাবে নেওয়া হবে, তবে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একত্রে একটি পত্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ঘণ্টা। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।

পরীক্ষা ফি

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রতি শিক্ষার্থীকে ৬০০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে বোর্ড ফি ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ২০০ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রশ্ন ও ফল প্রক্রিয়া

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণ করে প্রতিটি জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে ফরম পূরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র

প্রতিটি উপজেলা সদরে অন্তত একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক ও অবকাঠামোগতভাবে উপযুক্ত বিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে একাধিক কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থাও করা হবে।

style="text-align: justify;">নীতিমালায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই নীতিমালা জারি করেছে। তবে নীতিমালার কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনবোধে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।

গুরুত্ব

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় হবে।