সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৯১ Time View

14ea14e92c5b58c896d1b1a9fb29c552 68c81bad5bdfc

14ea14e92c5b58c896d1b1a9fb29c552 68c81bad5bdfc

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে ‘জামায়াত সরকারে আসতে পারলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদরাসার অস্তিত্ব রাখবে না’— শিরোনামে যে বক্তব্য হেফাজতের আমিরের নামে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া। সত্যের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এ ধরনের বক্তব্য কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মুসলমানদের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। একজন বরেণ্য আলেমের মুখে এমন অসত্য মন্তব্য শোভা পায় না বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দল, যা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। কওমি, দেওবন্দি কিংবা সুন্নিয়াত ধারার মাদরাসার বিরোধিতা কখনো জামায়াতে ইসলামীর নীতি ছিল না, নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বরং জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিগতভাবে কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দুজন মন্ত্রী সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে কওমি, দেওবন্দি কিংবা সুন্নিয়াত ধারার মাদরাসার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বাবুনগরীর আশঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না। ইসলামী শিক্ষা ও মাদরাসা সংস্কৃতির প্রতি জামায়াত বরাবরই আন্তরিক ছিল এবং থাকবে।

শেষে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মনগড়া মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা কর্তৃপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিবাদটি যথাযথভাবে প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের

Update Time : ০৯:০১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

14ea14e92c5b58c896d1b1a9fb29c552 68c81bad5bdfc

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে ‘জামায়াত সরকারে আসতে পারলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদরাসার অস্তিত্ব রাখবে না’— শিরোনামে যে বক্তব্য হেফাজতের আমিরের নামে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া। সত্যের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এ ধরনের বক্তব্য কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মুসলমানদের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। একজন বরেণ্য আলেমের মুখে এমন অসত্য মন্তব্য শোভা পায় না বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দল, যা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। কওমি, দেওবন্দি কিংবা সুন্নিয়াত ধারার মাদরাসার বিরোধিতা কখনো জামায়াতে ইসলামীর নীতি ছিল না, নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বরং জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিগতভাবে কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দুজন মন্ত্রী সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে কওমি, দেওবন্দি কিংবা সুন্নিয়াত ধারার মাদরাসার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বাবুনগরীর আশঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অসত্য ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না। ইসলামী শিক্ষা ও মাদরাসা সংস্কৃতির প্রতি জামায়াত বরাবরই আন্তরিক ছিল এবং থাকবে।

শেষে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মনগড়া মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা কর্তৃপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিবাদটি যথাযথভাবে প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করবে।