সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিব পর্যায়ের পেনশন না পেলে লাশ নেবে না নেপালের নিহতদের পরিবার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১১৬ Time View

14 20250915144644

14 20250915144644

নেপালে চলমান জেন-জি আন্দোলনে নিহতদের পরিবার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে—শহীদ স্বীকৃতি, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সচিব পর্যায়ের পেনশন সুবিধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা নিহত স্বজনদের মরদেহ গ্রহণ করবেন না। নিহতদের পরিবার রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি উপস্থাপন করে। এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট

আন্দোলন ও সহিংস বিক্ষোভে নিহতদের স্বজন ও আহতদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটি সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন তারা। নিহত কমল সুবেদীর এক স্বজন বলেন, “শনিবার মৌখিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু রবিবার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা পূরণ হয়নি।”

পরিবারগুলোর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নিহতদের শহীদ ঘোষণা করতে হবে।
  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • শেষকৃত্যের শোকমিছিল রাজধানীর রিং রোড প্রদক্ষিণ করবে।
  • নিহতদের পরিবারকে সচিব পর্যায়ের পেনশন সুবিধা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্কি দায়িত্ব গ্রহণের পর নিহত প্রত্যেককে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরিবারগুলোর দাবি, শুধুমাত্র অর্থসাহায্য নয়, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা: জুলু বিপ্লব ও আন্দোলনের পাঠ

নেপালের এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে আলোচিত অনেক আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণঅভ্যুত্থানেও শহীদ স্বীকৃতি, মরদেহের মর্যাদাপূর্ণ দাফন এবং পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিই মুখ্য ছিল।

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের পরিবার আজও স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। একইভাবে জুলু বিপ্লব বা প্রজন্মভিত্তিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, তরুণদের রক্তদান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্যও হয়।

নেপালের পরিবারগুলোর সচিব পর্যায়ের পেনশনের দাবি শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী বার্তা। তারা চান, তাদের প্রিয়জনদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মর্যাদার সঙ্গে সমানভাবে মূল্যায়িত হোক। বাংলাদেশের আন্দোলন ও বিপ্লবের ইতিহাসও প্রমাণ করে যে, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না।

এ ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি সাধারণ সত্য তুলে ধরে—যেখানে জনগণ যখন আন্দোলনে জীবন দেয়, তখন শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দাবি করে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সচিব পর্যায়ের পেনশন না পেলে লাশ নেবে না নেপালের নিহতদের পরিবার

Update Time : ০৫:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

14 20250915144644

নেপালে চলমান জেন-জি আন্দোলনে নিহতদের পরিবার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে—শহীদ স্বীকৃতি, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সচিব পর্যায়ের পেনশন সুবিধা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা নিহত স্বজনদের মরদেহ গ্রহণ করবেন না। নিহতদের পরিবার রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি উপস্থাপন করে। এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট

আন্দোলন ও সহিংস বিক্ষোভে নিহতদের স্বজন ও আহতদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটি সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন তারা। নিহত কমল সুবেদীর এক স্বজন বলেন, “শনিবার মৌখিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছিল, কিন্তু রবিবার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা পূরণ হয়নি।”

পরিবারগুলোর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নিহতদের শহীদ ঘোষণা করতে হবে।
  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • শেষকৃত্যের শোকমিছিল রাজধানীর রিং রোড প্রদক্ষিণ করবে।
  • নিহতদের পরিবারকে সচিব পর্যায়ের পেনশন সুবিধা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্কি দায়িত্ব গ্রহণের পর নিহত প্রত্যেককে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরিবারগুলোর দাবি, শুধুমাত্র অর্থসাহায্য নয়, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা: জুলু বিপ্লব ও আন্দোলনের পাঠ

নেপালের এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে আলোচিত অনেক আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গণঅভ্যুত্থানেও শহীদ স্বীকৃতি, মরদেহের মর্যাদাপূর্ণ দাফন এবং পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিই মুখ্য ছিল।

বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের পরিবার আজও স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। একইভাবে জুলু বিপ্লব বা প্রজন্মভিত্তিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, তরুণদের রক্তদান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্যও হয়।

নেপালের পরিবারগুলোর সচিব পর্যায়ের পেনশনের দাবি শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়, বরং এটি একটি প্রতীকী বার্তা। তারা চান, তাদের প্রিয়জনদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মর্যাদার সঙ্গে সমানভাবে মূল্যায়িত হোক। বাংলাদেশের আন্দোলন ও বিপ্লবের ইতিহাসও প্রমাণ করে যে, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না।

এ ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি সাধারণ সত্য তুলে ধরে—যেখানে জনগণ যখন আন্দোলনে জীবন দেয়, তখন শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দাবি করে।