সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধিবহির্ভূত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে দুদকে তলব

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩৪১ Time View

Chairman IDRA

Chairman IDRA

সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলমকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদক জানায়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ণ ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধায় উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর (নতুন ৬/এ) সড়কের ৭১১ নম্বর (নতুন ৬৩) প্লটে নির্মিত ১৪ তলা আবাসিক ভবনে মোট ১৮টি ফ্ল্যাট ছিল। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ (১২টি) সরকারি এবং ৪০ শতাংশ (৬টি) বেসরকারি কোটায় বরাদ্দ হওয়ার নিয়ম থাকলেও, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের একজন ছিলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।

শুধু তিনিই নন, সরকারের আরও ১১ জন সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • দুদকের সাবেক দুই কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও মো. জহুরুল হক
  • সাবেক সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান
  • সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার
  • সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ
  • সাবেক সচিব মো. সিরাজুল হক খান
  • সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ
  • সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম
  • মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ
  • সাবেক সচিব মো. আনিছুর রহমান
  • সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।

দুদক সূত্র জানায়, আগামী ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিকভাবে এই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অনিয়মের সত্যতা যাচাই করাই দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রধান লক্ষ্য।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা আমাদের রুটিন কাজের অংশ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, আইডিআরএ’র পরামর্শক (মিডিয়া ও যোগাযোগ) সাইফুন্নাহার সুমি জানান, “মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমকে দুদক তলব করেছে। তবে তিনি নিজে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার জানা মতে, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেননি।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দুদকের এই অনুসন্ধান সরকারি উচ্চপর্যায়ের আবাসন বরাদ্দে দুর্নীতির শিকড় খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিধিবহির্ভূত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে দুদকে তলব

Update Time : ০৯:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Chairman IDRA

সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলমকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদক জানায়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ণ ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নীতিমালা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধায় উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর (নতুন ৬/এ) সড়কের ৭১১ নম্বর (নতুন ৬৩) প্লটে নির্মিত ১৪ তলা আবাসিক ভবনে মোট ১৮টি ফ্ল্যাট ছিল। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ (১২টি) সরকারি এবং ৪০ শতাংশ (৬টি) বেসরকারি কোটায় বরাদ্দ হওয়ার নিয়ম থাকলেও, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের একজন ছিলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।

শুধু তিনিই নন, সরকারের আরও ১১ জন সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন—

  • দুদকের সাবেক দুই কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও মো. জহুরুল হক
  • সাবেক সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান
  • সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার
  • সাবেক সচিব আকতারী মমতাজ
  • সাবেক সচিব মো. সিরাজুল হক খান
  • সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ
  • সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম
  • মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ
  • সাবেক সচিব মো. আনিছুর রহমান
  • সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।

দুদক সূত্র জানায়, আগামী ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিকভাবে এই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অনিয়মের সত্যতা যাচাই করাই দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রধান লক্ষ্য।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা আমাদের রুটিন কাজের অংশ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, আইডিআরএ’র পরামর্শক (মিডিয়া ও যোগাযোগ) সাইফুন্নাহার সুমি জানান, “মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমকে দুদক তলব করেছে। তবে তিনি নিজে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তার জানা মতে, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেননি।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দুদকের এই অনুসন্ধান সরকারি উচ্চপর্যায়ের আবাসন বরাদ্দে দুর্নীতির শিকড় খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।