আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদ, ভাঙ্গা থানা ও উপজেলা পরিষদে হামলা, ধাওয়া খেয়ে মসজিদে আশ্রয় নিল পুলিশ
- Update Time : ০৫:২২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩০ Time View

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সোমবার দুপুরে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সহিংসতায় অচল হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা সদর। দুপুর সোয়া ১টার দিকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ ভবনের অন্তত ১৫টি অফিসকক্ষ ভাঙচুর করে তছনছ করে দেন। শুধু তাই নয়, উপজেলা অফিসার্স ক্লাবসংলগ্ন গ্যারেজে অগ্নিসংযোগ করে চারপাশে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে গোলচত্বরের দিকে অগ্রসর হয়। এরপর তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে হামলা শুরু করে। হামলার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক ও উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। বরং জনস্রোত ক্রমেই বাড়তে থাকে। ভাঙ্গার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন হেঁটে, ভ্যান-নসিমনে কিংবা মোটরসাইকেলে করে বিক্ষোভে যোগ দেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক এবং ভাঙ্গা-মাদারীপুর মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। পরিবহন খাতে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান বলেন, “আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। বিক্ষোভকারীরা বেশ সংগঠিত হয়ে উঠেছে, তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় লাগছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের এ ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।











