সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে ওড়না ছাড়া দেখার আবদার কলেজ অধ্যক্ষের, স্ক্রিনশট ভাইরাল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৬৪ Time View

b0cbaadee32a6b22b07c05839038252d 68c67ab22c007

b0cbaadee32a6b22b07c05839038252d 68c67ab22c007

নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো, ওড়না ছাড়া দেখার আবদার করা এবং অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মেসেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে পড়লে কলেজজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটে ঘটনাসংক্রান্ত স্ক্রিনশট টানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসব স্ক্রিনশটে অধ্যক্ষ সামসুল হককে ছাত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে, ওড়না ছাড়া ছবি চাইতে এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অধ্যক্ষ তাদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করতেন, এরপর ধীরে ধীরে অশ্লীল প্রস্তাব দিতেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, “দুই বছর আগে বিএমসি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালন করার সময় সামসুল স্যার আমাকে মেসেঞ্জারে অশ্লীল মন্তব্য করেন এবং ওড়না ছাড়া ছবি চান। তখন আমি তাকে ব্লক করে স্ক্রিনশট রেখে দিই। পরে যখন তিনি বদলি হয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজে আসেন, তখন ভয়ে চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন অন্যদের সঙ্গে একই ঘটনার স্ক্রিনশট দেখে সাহস পেয়েছি।”

অর্থনীতি বিভাগের আরেক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং কলেজ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় যুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অধ্যক্ষ সামসুল হক শুধু মেসেজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, সামনাসামনি দেখা হলে অশ্লীল দৃষ্টিতে তাকাতেন এবং সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন।

ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সামসুল হক এক ছাত্রীকে বলেন, “নতুন বউ সাজে দেখা করলে না?” ছাত্রী ব্যস্ততার কথা জানালে তিনি উত্তর দেন, “আমি তোমার বিউটি থেকে বঞ্চিত হলাম।” এ ধরনের অশ্লীল ইঙ্গিত শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

অভিভাবকরাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা লিপি বেগম বলেন, “একজন শিক্ষক যদি এভাবে অশ্লীল প্রস্তাব দেন, তাহলে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার মেয়ে যতদিন এই অধ্যক্ষ থাকবেন, কলেজে যাবে না। অবিলম্বে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সামসুল হকের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয়ে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

এ ঘটনায় কলেজজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো নিরাপদ জ্ঞানার্জনের জায়গা। অথচ একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ কেবল লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর উদাহরণ। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে সামসুল হককে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছাত্রীকে ওড়না ছাড়া দেখার আবদার কলেজ অধ্যক্ষের, স্ক্রিনশট ভাইরাল

Update Time : ০৩:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

b0cbaadee32a6b22b07c05839038252d 68c67ab22c007

নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সামসুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে আপত্তিকর মেসেজ পাঠানো, ওড়না ছাড়া দেখার আবদার করা এবং অবৈধ সম্পর্কে জড়ানোর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মেসেজের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে পড়লে কলেজজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটে ঘটনাসংক্রান্ত স্ক্রিনশট টানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসব স্ক্রিনশটে অধ্যক্ষ সামসুল হককে ছাত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে, ওড়না ছাড়া ছবি চাইতে এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অধ্যক্ষ তাদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করতেন, এরপর ধীরে ধীরে অশ্লীল প্রস্তাব দিতেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, “দুই বছর আগে বিএমসি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালন করার সময় সামসুল স্যার আমাকে মেসেঞ্জারে অশ্লীল মন্তব্য করেন এবং ওড়না ছাড়া ছবি চান। তখন আমি তাকে ব্লক করে স্ক্রিনশট রেখে দিই। পরে যখন তিনি বদলি হয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজে আসেন, তখন ভয়ে চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন অন্যদের সঙ্গে একই ঘটনার স্ক্রিনশট দেখে সাহস পেয়েছি।”

অর্থনীতি বিভাগের আরেক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং কলেজ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় যুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অধ্যক্ষ সামসুল হক শুধু মেসেজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, সামনাসামনি দেখা হলে অশ্লীল দৃষ্টিতে তাকাতেন এবং সৌন্দর্যের প্রশংসা করতেন।

ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সামসুল হক এক ছাত্রীকে বলেন, “নতুন বউ সাজে দেখা করলে না?” ছাত্রী ব্যস্ততার কথা জানালে তিনি উত্তর দেন, “আমি তোমার বিউটি থেকে বঞ্চিত হলাম।” এ ধরনের অশ্লীল ইঙ্গিত শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

অভিভাবকরাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা লিপি বেগম বলেন, “একজন শিক্ষক যদি এভাবে অশ্লীল প্রস্তাব দেন, তাহলে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার মেয়ে যতদিন এই অধ্যক্ষ থাকবেন, কলেজে যাবে না। অবিলম্বে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সামসুল হকের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিক পরিচয়ে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

এ ঘটনায় কলেজজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো নিরাপদ জ্ঞানার্জনের জায়গা। অথচ একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ কেবল লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর উদাহরণ। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে সামসুল হককে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।