সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, কাতারের আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৮৪ Time View

trump inqilab wadud 20250911094352

trump inqilab wadud 20250911094352
 

কাতারে হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এ হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর প্রতি “তীব্র হতাশা” প্রকাশ করেন এবং এটিকে “অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে কাতার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতানিয়াহুকে জানান—দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে একতরফা পদক্ষেপ ছিল। তিনি বলেন, এ হামলার খবর তিনি জানতে পারেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে, অথচ ইসরায়েল আগে থেকে কোনো তথ্য শেয়ার করেনি। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের হামলা এমন এক মিত্র দেশের ভূখণ্ডে চালানো হয়েছে, যে দেশটি গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

নেতানিয়াহু এর জবাবে বলেন, হামলার সুযোগ খুব সীমিত সময়ের জন্য তৈরি হয়েছিল, তাই তিনি সেটি কাজে লাগিয়েছেন। পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে আরও একটি ফোনালাপ হয়, যা তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সেখানে ট্রাম্প জানতে চান হামলা সফল হয়েছে কিনা। তবে নেতানিয়াহু সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। পরে হামাস জানায়, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এ হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে, যদিও সংগঠনের পাঁচ সদস্য এবং এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প ক্রমেই নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠছেন। কারণ, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত না করে একতরফাভাবে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য–সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হামলা ছিল “হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান।”

অন্যদিকে কাতার এ হামলাকে “কাপুরুষোচিত কাজ” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল–থানি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দোহায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং “এই অঞ্চল থেকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া আসবে।”

উল্লেখ্য, উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে মিলে গাজা যুদ্ধের মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলের হামলায় সেই প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে কাতার জানিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, কাতারের আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি

Update Time : ১২:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
trump inqilab wadud 20250911094352
 

কাতারে হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এ হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর প্রতি “তীব্র হতাশা” প্রকাশ করেন এবং এটিকে “অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে কাতার এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতানিয়াহুকে জানান—দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে একতরফা পদক্ষেপ ছিল। তিনি বলেন, এ হামলার খবর তিনি জানতে পারেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে, অথচ ইসরায়েল আগে থেকে কোনো তথ্য শেয়ার করেনি। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের হামলা এমন এক মিত্র দেশের ভূখণ্ডে চালানো হয়েছে, যে দেশটি গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।

নেতানিয়াহু এর জবাবে বলেন, হামলার সুযোগ খুব সীমিত সময়ের জন্য তৈরি হয়েছিল, তাই তিনি সেটি কাজে লাগিয়েছেন। পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে আরও একটি ফোনালাপ হয়, যা তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সেখানে ট্রাম্প জানতে চান হামলা সফল হয়েছে কিনা। তবে নেতানিয়াহু সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। পরে হামাস জানায়, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এ হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে, যদিও সংগঠনের পাঁচ সদস্য এবং এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প ক্রমেই নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠছেন। কারণ, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত না করে একতরফাভাবে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য–সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হামলা ছিল “হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট অভিযান।”

অন্যদিকে কাতার এ হামলাকে “কাপুরুষোচিত কাজ” আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল–থানি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দোহায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং “এই অঞ্চল থেকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া আসবে।”

উল্লেখ্য, উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে মিলে গাজা যুদ্ধের মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলের হামলায় সেই প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে কাতার জানিয়েছে।