নেপালে জেন-জি বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ১৪, রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি
- Update Time : ০৫:৫১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৩৭ Time View

নেপালে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলমান জেন-জি প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
হাসপাতালগুলোতে লাশের সারি
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় ট্রমা সেন্টারে আনা সাতজন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন। এ ছাড়া বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে তিনজন, সিভিল হাসপাতালে দুইজন এবং মহারাজগঞ্জের কেএমসি ও ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে একজন করে মারা গেছেন। এখনো নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক দীপেন্দ্র পান্ডে জানিয়েছেন, অন্তত ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাদের মাথা ও বুকে গুলি লেগেছে। এর বাইরে আরও ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, এভারেস্ট হাসপাতালের কর্মকর্তা অনিল অধিকারী বলেন, শুধু তাদের হাসপাতালে ৫০ জনেরও বেশি আহত বিক্ষোভকারী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ
প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড তৈরি করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে এগিয়ে গেলে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং পরবর্তীতে সরাসরি গুলি ব্যবহার করে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল, পানির বোতল ছুড়ে মারে এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির স্লোগান দেয়। অনেকেই সংসদ ভবনের প্রাঙ্গণেও প্রবেশ করে।

কারফিউ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অস্থিরতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। সংবেদনশীল সরকারি স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
জেন–জি প্রজন্মের নেতৃত্বে আন্দোলন
হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এই বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি এবং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাটসহ ২৬টি অনিবন্ধিত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
নেপালে এই তরুণ প্রজন্মভিত্তিক আন্দোলন ক্রমেই আরও বড় আকার ধারণ করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপ এবং রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।











