সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা, গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

da83c03864ed7c7677c6ea0e23ea7f38f079c1c6bce61ed5 1 2509061606

da83c03864ed7c7677c6ea0e23ea7f38f079c1c6bce61ed5 1 2509061606

বাংলাদেশের গ্রামীণ বিদ্যুৎ খাতে অস্থির পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি বৈষম্য নিরসন, হয়রানি বন্ধ ও সাংগঠনিক সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে আগামী রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার। তিনি অভিযোগ করেন, বহুবার আলোচনার টেবিলে বসে কমিটি গঠন ও আশ্বাস দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি। বরং আন্দোলনে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করা হচ্ছে চাকরিচ্যুতি, বদলি ও বরখাস্তের মাধ্যমে। এতে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অঞ্জু রানী মালাকার আরও বলেন, “অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ও স্থানচ্যুত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্দোলনে চাপ প্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো সমাধান সম্ভব নয়।”

চার দফা দাবি:

১. আরইবি–পিবিএস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা। সব চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
২. ১৭ আগস্ট থেকে হয়রানিমূলকভাবে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগের কর্মস্থলে পুনর্বহাল।
৩. মাঠপর্যায়ে কর্মরত লাইনক্রুদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং আন্দোলনে অংশ নিতে না পারা পাঁচজন কর্মীকে পুনরায় পদায়ন।
৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই গণছুটি শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ বিদ্যুতের গ্রাহক। এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ত্রুটিমুক্তকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষিকাজে সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে।

style="text-align: justify;">সরকারের অবস্থান

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে। শ্রম আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এবার গণছুটিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা, গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা

Update Time : ১০:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

da83c03864ed7c7677c6ea0e23ea7f38f079c1c6bce61ed5 1 2509061606

বাংলাদেশের গ্রামীণ বিদ্যুৎ খাতে অস্থির পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি বৈষম্য নিরসন, হয়রানি বন্ধ ও সাংগঠনিক সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে আগামী রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-দপ্তর সম্পাদক অঞ্জু রানী মালাকার। তিনি অভিযোগ করেন, বহুবার আলোচনার টেবিলে বসে কমিটি গঠন ও আশ্বাস দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেয়নি। বরং আন্দোলনে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করা হচ্ছে চাকরিচ্যুতি, বদলি ও বরখাস্তের মাধ্যমে। এতে সংগঠনের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অঞ্জু রানী মালাকার আরও বলেন, “অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ও স্থানচ্যুত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্দোলনে চাপ প্রয়োগ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো সমাধান সম্ভব নয়।”

চার দফা দাবি:

১. আরইবি–পিবিএস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার মতো কোম্পানি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা। সব চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
২. ১৭ আগস্ট থেকে হয়রানিমূলকভাবে চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগের কর্মস্থলে পুনর্বহাল।
৩. মাঠপর্যায়ে কর্মরত লাইনক্রুদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং আন্দোলনে অংশ নিতে না পারা পাঁচজন কর্মীকে পুনরায় পদায়ন।
৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই গণছুটি শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ বিদ্যুতের গ্রাহক। এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ত্রুটিমুক্তকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কৃষিকাজে সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে।

style="text-align: justify;">সরকারের অবস্থান

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে। শ্রম আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।