সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনা যদি গণভবনে মারা যেতে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে টিকে যেত: ফুয়াদ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১২২ Time View

e8544d0b06987a3fec65992ef41079f0 68b9710e539af

e8544d0b06987a3fec65992ef41079f0 68b9710e539af

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মনে করেন, শেখ হাসিনা যদি পালিয়ে না গিয়ে গণভবনেই মৃত্যুবরণ করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখত। তার দাবি, কোনো পলাতক স্বৈরাচার কখনো বিজয়ীর বেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারে না, এবং ইতিহাস বারবার এই সত্য প্রমাণ করেছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়ে ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান নিষিদ্ধ অবস্থার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে অনেকেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেননি। দলের ভেতরে এখনো অনেক নেতা-কর্মী বিশ্বাস করেন তারা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, কোনো স্বৈরশাসক পালিয়ে গিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে না।”

তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর তুলনা টেনে বলেন, “১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারসহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজের বাসায় নিহত হয়েছিলেন। তিনি পালিয়ে যাননি। ফলে তার মৃত্যু রাজনৈতিক সহানুভূতি তৈরি করেছিল, যা আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শোকের রাজনীতি দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য জনসমর্থন তৈরি করা এখন সম্ভব নয়।”

ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার বিদেশযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, “২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছায় বিদেশ গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণঅভ্যুত্থানের চাপে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যদি তিনি গণভবনে বসেই নিজের রাজনৈতিক পরিণতি মেনে নিতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারত।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাবার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত এবং বিতর্কিত। আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নেই। ফলে দলটি এখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফুয়াদের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে “শোকের রাজনীতি” দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশত্যাগ আওয়ামী লীগের জন্য সেই সহানুভূতির সুযোগকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইত্তেফাক সূত্রে জানা যায়, এবি পার্টি বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে তৃতীয় একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্যকে তারা আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র সমালোচনার অংশ হিসেবেই দেখছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসিনা যদি গণভবনে মারা যেতে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে টিকে যেত: ফুয়াদ

Update Time : ০৫:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

e8544d0b06987a3fec65992ef41079f0 68b9710e539af

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মনে করেন, শেখ হাসিনা যদি পালিয়ে না গিয়ে গণভবনেই মৃত্যুবরণ করতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখত। তার দাবি, কোনো পলাতক স্বৈরাচার কখনো বিজয়ীর বেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারে না, এবং ইতিহাস বারবার এই সত্য প্রমাণ করেছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়ে ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান নিষিদ্ধ অবস্থার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে অনেকেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেননি। দলের ভেতরে এখনো অনেক নেতা-কর্মী বিশ্বাস করেন তারা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। কিন্তু ইতিহাস বলে, কোনো স্বৈরশাসক পালিয়ে গিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে না।”

তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর তুলনা টেনে বলেন, “১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারসহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজের বাসায় নিহত হয়েছিলেন। তিনি পালিয়ে যাননি। ফলে তার মৃত্যু রাজনৈতিক সহানুভূতি তৈরি করেছিল, যা আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। শোকের রাজনীতি দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য জনসমর্থন তৈরি করা এখন সম্ভব নয়।”

ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার বিদেশযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, “২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বেচ্ছায় বিদেশ গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণঅভ্যুত্থানের চাপে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যদি তিনি গণভবনে বসেই নিজের রাজনৈতিক পরিণতি মেনে নিতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারত।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাবার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত এবং বিতর্কিত। আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নেই। ফলে দলটি এখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফুয়াদের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে “শোকের রাজনীতি” দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার দেশত্যাগ আওয়ামী লীগের জন্য সেই সহানুভূতির সুযোগকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইত্তেফাক সূত্রে জানা যায়, এবি পার্টি বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে তৃতীয় একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে। ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই বক্তব্যকে তারা আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র সমালোচনার অংশ হিসেবেই দেখছে।