মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হলেই সরকারি চাকরি ও জনপ্রতিনিধিত্ব থেকে আজীবন অযোগ্য ঘোষণা
- Update Time : ০৫:৩২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২১২ Time View

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল হলেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা পদে বহাল থাকার যোগ্যতা হারাবেন। একইসঙ্গে তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বা অন্যান্য জনসেবামূলক সরকারি পদেও অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ নতুন একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম করবে।
প্রেস সচিব বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩–এর ২৩ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ধারার অধীনে, সেকশন ৯(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা পদে বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।”
শুধু সংসদ সদস্যই নন, অভিযুক্তরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত পদেও প্রার্থী হতে পারবেন না। এতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদও অন্তর্ভুক্ত। প্রেস সচিব আরও বলেন, “এমনকি অভিযুক্তরা প্রজাতন্ত্রের কোনো চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনেরও যোগ্য হবেন না।”
এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কিছু ব্যক্তি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী সরকারি পদে থেকে বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। নতুন আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে সেই সুযোগ বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি হলো ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’। এ নীতিমালার লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা।
এ ছাড়া ‘টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি ২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, নতুন নীতিমালায় বিদ্যমান লাইসেন্সিং কাঠামোর সংস্কার করা হবে। এর ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে এবং গ্রাহকরা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত সেবা পাবেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “নতুন নীতিমালার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ভয়েস কল, ইন্টারনেট ও ডেটা সেবা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হবে। দেশের ডিজিটাল খাতকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।”
বিশ্লেষকদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের জনপ্রতিনিধিত্ব ও সরকারি চাকরি থেকে আজীবন অযোগ্য ঘোষণা করা হলে ন্যায়বিচারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ খাতে গৃহীত নতুন নীতিমালা দেশের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।











