ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- Update Time : ১১:৪১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১৭ Time View

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (তারিখ) হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এই মনোনয়নের তথ্য জানানো হয়। এই মনোনয়ন এখন সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর শ্রেণির একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে দায়িত্ব পালন করা ক্রিস্টেনসেনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্রিস্টেনসেন। তার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার দুই দশকেরও বেশি সময়ের, যার মধ্যে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশে মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সাল থেকে তিন বছর তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
সিনেটের অনুমোদন পেলে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাস দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে গত বছর অবসরে যান। পিটার হাসের বিদায়ের পর অভিজ্ঞ কূটনীতিক ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময় মার্কিন কূটনৈতিক নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি ইঙ্গিত বহন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। ক্রিস্টেনসেনের অভিজ্ঞতা ও ঢাকায় পূর্ববর্তী কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্কও দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। এ পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ ক্যারিয়ার কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কই নয়, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও আরও সুদৃঢ় করতে কাজ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।











