সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার উদ্দেশ্যেই নুরকে আঘাত করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১১৩ Time View

1756805323 4d9b5516e104c11b6fdad37886a36649 20250902160837

1756805323 4d9b5516e104c11b6fdad37886a36649 20250902160837

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে তা হলো, যারাই আঘাত করুক না কেন, এটা পরিষ্কার যে নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা।”

বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, নুরের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কা কাটেনি। তিনি বলেন, “তার আঘাতের স্থানগুলো মারাত্মক। মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, ব্রেনে ইনজুরি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এখানে চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি নেই, তবে তাকে এখনও তরল খাবার পাইপের মাধ্যমে খাওয়াতে হচ্ছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে, আরেকটু পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর প্রকাশ্যে এমন হামলা চালায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা উচিত।”

নুরুল হক নুর ডাকসুর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৮-১৯ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বর্তমানে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক মহলে তাকে তরুণদের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়। তার ওপর হামলার ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজেও তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু রাজনীতিতে নয়, সমাজে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি করে। তারা মনে করছেন, হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং উদ্দেশ্য কী, তা উদঘাটন করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হত্যার উদ্দেশ্যেই নুরকে আঘাত করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

Update Time : ০৫:৪০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

1756805323 4d9b5516e104c11b6fdad37886a36649 20250902160837

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে তা হলো, যারাই আঘাত করুক না কেন, এটা পরিষ্কার যে নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা।”

বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, নুরের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কা কাটেনি। তিনি বলেন, “তার আঘাতের স্থানগুলো মারাত্মক। মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, ব্রেনে ইনজুরি হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এখানে চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি নেই, তবে তাকে এখনও তরল খাবার পাইপের মাধ্যমে খাওয়াতে হচ্ছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে, আরেকটু পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর প্রকাশ্যে এমন হামলা চালায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা উচিত।”

নুরুল হক নুর ডাকসুর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০১৮-১৯ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বর্তমানে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক মহলে তাকে তরুণদের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়। তার ওপর হামলার ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজেও তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু রাজনীতিতে নয়, সমাজে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি করে। তারা মনে করছেন, হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং উদ্দেশ্য কী, তা উদঘাটন করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।