সুদানে ভয়াবহ ভূমিধসে পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন, সহস্রাধিক মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু
- Update Time : ১০:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১৩ Time View

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের দারফুরের দুর্গম মাররা পাহাড়ি এলাকায় ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ভয়াবহ ভূমিধসে সম্পূর্ণ একটি গ্রাম মানচিত্র থেকে মুছে গেছে, আর প্রাণ হারিয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বেঁচে আছেন মাত্র একজন ব্যক্তি, যিনি অলৌকিকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্যোগ থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন।
গত রবিবার টানা ভারী বর্ষণের পর এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট (এসএলএম) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে জানানো হয়, পুরো গ্রামটি পাহাড়ি ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে গেছে এবং উদ্ধার অভিযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত জনবল বা সরঞ্জাম নেই। দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় সেখানে পৌঁছানোও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাররা পর্বত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসএলএম-এর নিয়ন্ত্রণ থাকায় সরকারি বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উপস্থিতি সীমিত। সেজন্য সংগঠনটি জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার কাছে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার দল, ভারী সরঞ্জাম, ওষুধপত্র এবং খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, সঠিক সময়ে সহায়তা না পৌঁছালে আরও অনেক মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পচে-গলে যাবে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন সুদান গত দুই বছর ধরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। সরকারি সেনাবাহিনী এবং প্যারামিলিটারি বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তার আশায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছিলেন দারফুরের দুর্গম এই গ্রামে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির নির্মমতা তাদের জীবনের আশ্রয়কেও কেড়ে নিল।
প্রতিবেদন বলছে, মাররা পাহাড়ি অঞ্চল সবসময়ই খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে সমস্যাপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। চলমান যুদ্ধের কারণে সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। এখন ভূমিধসের কারণে এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন আল জাজিরা ও সিএনএন জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ভয়াবহ—পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা ও ধ্বংসস্তূপে গ্রামটির অস্তিত্বই মুছে গেছে।
জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং দুর্গমতার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে আরও সময় লাগতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব আরও গভীর এবং ভয়াবহ হয়, কারণ সেখানে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।
এই ঘটনা শুধু সুদানের মানবিক সংকটকেই আরও প্রকট করে তুলেনি, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—যুদ্ধের ছায়ায় থাকা দেশগুলোর সাধারণ মানুষদের জন্য কি যথেষ্ট মানবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে?
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম











