সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি, উপাচার্যের বক্তব্য—‘আমি কোনো অন্যায় করিনি’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৯৫ Time View

bau inqilab wadud 20250901173259

bau inqilab wadud 20250901173259

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনা ও সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়ার প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা। তবে উপাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন আমতলায় কয়েকশো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে তাদের ছয় দফা দাবি ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, হামলায় আহতদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য উপাচার্যের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে, রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা সভাকক্ষ তালাবদ্ধ করে। পরে সন্ধ্যার দিকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, ককটেল ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হন এবং ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষার্থীদের শতভাগ দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ তুলছে যে শিক্ষকরা বহিরাগত ডেকে এনেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা কেন বাইরের কাউকে ডাকবো? তারা তো আমাদের ছেলেমেয়ের মতো। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভা ডেকেছিলাম।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় হলগুলোতেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা, বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, হামলাকারীদের সনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার কারণে হাজারো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে। হঠাৎ করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি, উপাচার্যের বক্তব্য—‘আমি কোনো অন্যায় করিনি’

Update Time : ০৫:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

bau inqilab wadud 20250901173259

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনা ও সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়ার প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা। তবে উপাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন আমতলায় কয়েকশো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে তাদের ছয় দফা দাবি ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলার নেপথ্যে থাকা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, হামলায় আহতদের চিকিৎসার নিশ্চয়তা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য উপাচার্যের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে, রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা সভাকক্ষ তালাবদ্ধ করে। পরে সন্ধ্যার দিকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, ককটেল ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হন এবং ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষার্থীদের শতভাগ দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ তুলছে যে শিক্ষকরা বহিরাগত ডেকে এনেছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা কেন বাইরের কাউকে ডাকবো? তারা তো আমাদের ছেলেমেয়ের মতো। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভা ডেকেছিলাম।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় হলগুলোতেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা, বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, হামলাকারীদের সনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার কারণে হাজারো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে। হঠাৎ করে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।