সেনাবাহিনী ও পুলিশের সীমা লঙ্ঘন: ভিপি নুরকে হত্যার চেষ্টা, দায় নিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে
- Update Time : ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১১ Time View

আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গভীর ঘৃণা ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমাদের দেশের প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে তারা জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে উল্টো সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। এই ঘটনার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তাদের জড়িত থাকা নৃশংস হামলা। এটা কোনো সাধারণ হামলা নয়, এটা ছিল একটি স্পষ্ট হত্যার চেষ্টা।কারণ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শুধু ভিপি নুর কে কিছু পুলিশ এবং সেনাবাহিরনীর সদস্য মারছে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাঁকে মারতে ছিল যা যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারকেও হার হানায়।যদি সে অপরাধ করে থাকে তাহলে তাঁকে না মেরে কেন এরেস্ট করা হল না?
দেশবাসীর মনে এখন প্রশ্ন—একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে এতটা নির্মমভাবে প্রহারের প্রয়োজন কেন পড়ল? কার স্বার্থে এই ঘটনা ঘটানো হলো? যদি সরকার সত্যিই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী হয়, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই ঘটনার পূর্ণ দায় স্বীকার করতে হবে এবং ঘটনার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সেনা ও পুলিশের দায়িত্ব কোথায়?
পুলিশ ও সেনাবাহিনী এই দেশের নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হয়। তাদের প্রথম দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন অনুযায়ী অপরাধ দমন করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দুই বাহিনী আজ জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। বরং তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দমন-পীড়নের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
ঘটনাটি দেখে মনে হয়েছে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যেন বিচার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে মব জাস্টিস বা গোষ্ঠীগত বিচার চালু করেছে। এমন কাজের ফলে দেশের সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা ধ্বংস হচ্ছে। সেনা ও পুলিশ বাহিনী যদি এভাবে সীমালঙ্ঘন করে, তবে রাষ্ট্রব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
ভিপি
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সেনাপ্রধানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার শামসের ফোনকল যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কেন তিনি একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফোন করে হুমকি দিলেন? সেনাবাহিনী কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত? নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য এই হামলা পরিচালিত হয়েছে?
আরেকটি প্রশ্ন জাগছে—জাতীয় পার্টি এবং সেনাবাহিনীর এই সম্পর্কের গভীরতা কতটুকু? বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা দেখেছি,জাতীয় পার্টি একসময় ছিল আওয়ামীলীগের ক্ষমতার অন্যতম শরীকদল। এখন কি আবার সেই পুরনো দিনকে ফিরিইয়ে আনতে চাইছে?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। কিন্তু এই সরকার যদি নিজের কর্তৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক নেতাদের দমন করার জন্য ব্যবহার করে, তবে জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত:
- ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকাশ করা।
- সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার অবিলম্বে পদত্যাগ করা, কারণ এই ঘটনার দায় তার অধীনস্থ বাহিনীকে ঘিরে।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে হামলার বিচার নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, আইনের শাসন চাই
বাংলাদেশের মানুষ আজ রাজনৈতিক প্রতিশোধের রাজনীতিতে ক্লান্ত। সরকার পরিবর্তন হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন এক পক্ষের হয়ে কাজ করে, অন্য পক্ষকে দমন করে। এমন অবস্থার অবসান ঘটাতে না পারলে গণতন্ত্র কেবলই একটি নামমাত্র প্রহসনে পরিণত হবে।
ভিপি নুরের মতো একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতার ওপর হত্যাচেষ্টা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি একটি বার্তা—যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের দমন করা হবে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দমনপীড়ন চিরদিন টিকে থাকে না। আজ দেশের সাধারণ মানুষ সেনা ও পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত।
আন্তর্জাতিক বিচার ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন
বাংলাদেশে যদি সত্যিকার অর্থে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হয়, তবে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ী দলগুলোর জবাবদিহি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিশ্চিত করা জরুরি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির সামরিক প্রভাবের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্ত হওয়া উচিত।
আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাগরিকদের হত্যা করতে উদ্যত হয়, তবে এই রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংসের পথে যাবে। আমাদের করের টাকায় যারা বেতন পান, তারা জনগণের সেবক, প্রভু নন। জনগণের ওপর হামলা চালানো সেনা ও পুলিশের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ঘটনার পূর্ণ দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে এবং অবিলম্বে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিতে হবে।











