সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুরুল হক নুরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় ওয়াকারের নিরাপত্তা অফিসার ব্রিগেডিয়ার শামস: ‘কার নির্দেশে এই হুমকি?’—প্রশ্ন আবু হানিফের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১১ Time View

493259810 122130354194647374 3310363119986754229 n 2508292158

493259810 122130354194647374 3310363119986754229 n 2508292158

 

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনার আগে সেনাবাহিনী প্রধানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার শামস নুরকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ প্রকাশ করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

আবু হানিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার শামস নুরুল হক নুরকে সরাসরি ফোন দিয়ে জাতীয় পার্টি এবং এর চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করার হুঁশিয়ারি দেন। তবে নুর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জাতীয় পার্টি ও ‘ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের’ বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

হানিফ আরও লেখেন, “ব্রিগেডিয়ার শামস ফোনে নুর ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেন—এর ফল ভালো হবে না। এর কিছুক্ষণ পরই ক্যাপ্টেন রাকিবের নেতৃত্বে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। তখন নুর ভাই কার্যালয়ের সামনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হামলাকারীরা কোনো সতর্কবার্তা না দিয়েই নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং অফিসের ভেতরেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।”

তিনি দাবি করেন, হামলার লক্ষ্য ছিল সরাসরি নুরুল হক নুরকে হত্যার চেষ্টা। হামলাকারীরা শুধু নেতাকর্মীদের মারধরই করেনি, বরং কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং শৌচাগার পর্যন্ত নষ্ট করেছে। “এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ভয়াবহ রূপ,” উল্লেখ করেন হানিফ।

স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও প্রশ্ন তোলেন, “ওয়াকারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার শামস কার নির্দেশে নুরুল হক নুরকে হুমকি দিয়েছে? জাতীয় পার্টি ও জিএম কাদেরকে কার স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত করছে সেনাবাহিনী?”

হানিফের মতে, এই হামলা কেবল নুরুল হক নুরকে লক্ষ্যবস্তু করেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের অংশ। তিনি লেখেন, “আজ নুরুল হক নুর! কাল হাসনাত! পরশু আরেকজন! পতিত সরকার ২৪-এর প্রতিশোধ নিতে এমন হামলা চালাচ্ছে।”

এ ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও সেনাবাহিনী বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। নাগরিক সমাজ ও গণতন্ত্রকামী সংগঠনগুলো হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নুরুল হক নুরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় ওয়াকারের নিরাপত্তা অফিসার ব্রিগেডিয়ার শামস: ‘কার নির্দেশে এই হুমকি?’—প্রশ্ন আবু হানিফের

Update Time : ০২:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

493259810 122130354194647374 3310363119986754229 n 2508292158

 

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনার আগে সেনাবাহিনী প্রধানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার শামস নুরকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ প্রকাশ করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

আবু হানিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার শামস নুরুল হক নুরকে সরাসরি ফোন দিয়ে জাতীয় পার্টি এবং এর চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করার হুঁশিয়ারি দেন। তবে নুর স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জাতীয় পার্টি ও ‘ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের’ বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

হানিফ আরও লেখেন, “ব্রিগেডিয়ার শামস ফোনে নুর ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেন—এর ফল ভালো হবে না। এর কিছুক্ষণ পরই ক্যাপ্টেন রাকিবের নেতৃত্বে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। তখন নুর ভাই কার্যালয়ের সামনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হামলাকারীরা কোনো সতর্কবার্তা না দিয়েই নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং অফিসের ভেতরেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।”

তিনি দাবি করেন, হামলার লক্ষ্য ছিল সরাসরি নুরুল হক নুরকে হত্যার চেষ্টা। হামলাকারীরা শুধু নেতাকর্মীদের মারধরই করেনি, বরং কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং শৌচাগার পর্যন্ত নষ্ট করেছে। “এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ভয়াবহ রূপ,” উল্লেখ করেন হানিফ।

স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও প্রশ্ন তোলেন, “ওয়াকারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার শামস কার নির্দেশে নুরুল হক নুরকে হুমকি দিয়েছে? জাতীয় পার্টি ও জিএম কাদেরকে কার স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত করছে সেনাবাহিনী?”

হানিফের মতে, এই হামলা কেবল নুরুল হক নুরকে লক্ষ্যবস্তু করেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের অংশ। তিনি লেখেন, “আজ নুরুল হক নুর! কাল হাসনাত! পরশু আরেকজন! পতিত সরকার ২৪-এর প্রতিশোধ নিতে এমন হামলা চালাচ্ছে।”

এ ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও সেনাবাহিনী বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। নাগরিক সমাজ ও গণতন্ত্রকামী সংগঠনগুলো হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে।