ধর্ষণের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে এবার দুই ছাত্রকে বলাৎকার, মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৫:২৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৮৫ Time View

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম খলিল (৩০) আবারও গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এবার তার বিরুদ্ধে নিজের মাদ্রাসার দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে বুড়িচং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে পূর্বেও দেবিদ্বার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা ছিল, যে মামলায় তিনি সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। নতুন অভিযোগের পর তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল দুই ছাত্রকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে তিনি শিক্ষার্থীদের শরীর মালিশ করার প্রস্তাব দেন, পরে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে অভিভাবকরা স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন ন্যাক্কারজনক অপরাধ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তারা অভিযোগ করেছেন, আগের ধর্ষণ মামলার পরও তাকে জামিন দেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর ছিল, অথচ সেই আস্থার সুযোগ নিয়েই তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া পূর্বের ধর্ষণ মামলার তথ্য যাচাই করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাঠামো ও তদারকি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনায় বারবার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসা উদ্বেগজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার দাবি তুলেছেন তারা।











