সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী কোটা বাতিল, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৬২ Time View

2092add71be592daf8acb0a421e1dbe4 68b0b3ef4b15b

2092add71be592daf8acb0a421e1dbe4 68b0b3ef4b15b

 

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার নতুন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ প্রকাশ করেছে। এ বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নারী প্রার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা এবং পোষ্য কোটার প্রথা বাতিল করা। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বছর।

নতুন বিধিমালা উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও মেধাভিত্তিক করার লক্ষ্য নিয়েছে। এখন থেকে সহকারী শিক্ষক পদে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৭ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য। নির্দিষ্ট কোটার প্রার্থী না থাকলে শূন্য পদগুলোও মেধাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

বিধিমালায় পদোন্নতির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির মাধ্যমে উন্নীত হতে পারবেন। আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তবে পদোন্নতির জন্য যোগ্য প্রার্থী না থাকলে সরাসরি নিয়োগের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

নতুন বিধিমালায় প্রথমবারের মতো শরীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত বিষয়ে বিশেষায়িত সহকারী শিক্ষক পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক পদে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে, বাকি ৮০ শতাংশ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে প্রার্থী শিক্ষক নিয়োগের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা ও থানাভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।

এই সংস্কারের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত নারী কোটা ও পোষ্য কোটার প্রথা বাতিল হওয়াকে অনেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকদের মতে, নারীদের জন্য কোটা বাতিল হলে নারী শিক্ষকদের অনুপাত কমে যেতে পারে, যা প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ও বাছাই পদ্ধতি আরও জোরদার করা হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নারী কোটা বাতিল, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি

Update Time : ১১:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

2092add71be592daf8acb0a421e1dbe4 68b0b3ef4b15b

 

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার নতুন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ প্রকাশ করেছে। এ বিধিমালায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নারী প্রার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা এবং পোষ্য কোটার প্রথা বাতিল করা। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বছর।

নতুন বিধিমালা উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও মেধাভিত্তিক করার লক্ষ্য নিয়েছে। এখন থেকে সহকারী শিক্ষক পদে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৭ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য। নির্দিষ্ট কোটার প্রার্থী না থাকলে শূন্য পদগুলোও মেধাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

বিধিমালায় পদোন্নতির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষক পদোন্নতির মাধ্যমে উন্নীত হতে পারবেন। আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তবে পদোন্নতির জন্য যোগ্য প্রার্থী না থাকলে সরাসরি নিয়োগের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

নতুন বিধিমালায় প্রথমবারের মতো শরীরিক শিক্ষা ও সঙ্গীত বিষয়ে বিশেষায়িত সহকারী শিক্ষক পদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক পদে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে, বাকি ৮০ শতাংশ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে প্রার্থী শিক্ষক নিয়োগের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা ও থানাভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।

এই সংস্কারের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত নারী কোটা ও পোষ্য কোটার প্রথা বাতিল হওয়াকে অনেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকদের মতে, নারীদের জন্য কোটা বাতিল হলে নারী শিক্ষকদের অনুপাত কমে যেতে পারে, যা প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ও বাছাই পদ্ধতি আরও জোরদার করা হবে।