হাসনাতের ‘ছাত্রলীগ সংযোগ’ নিয়ে রুমিনের পাল্টা আক্রমণ, বললেন ‘ফকিন্নির বাচ্চা’
- Update Time : ১১:৩২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬৭ Time View

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানিতে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনার পর বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের লড়াই। হাসনাতের মন্তব্যের জবাবে রুমিন এবার তার রাজনৈতিক অতীত টেনে এনে ‘ছাত্রলীগ সংযোগ’-এর অভিযোগ তুলেছেন এবং কঠোর ভাষায় তাকে আক্রমণ করেছেন।
রবিবার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের আগারগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ক শুনানিতে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোল হয়। শুনানিতে বিএনপির পক্ষে রুমিন ফারহানা খসড়া সীমানা প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খসড়ার বিপক্ষে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ রুমিন ফারহানাকে ব্যঙ্গ করে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে রুমিন গত সরকারে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন।
এই মন্তব্যের জবাবে সোমবার রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন রুমিন ফারহানা। সেখানে হাসনাতকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ আখ্যা দিয়ে তিনি তার রাজনৈতিক অতীত নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। নিজের পোস্টে রুমিন লেখেন, “এটা ঐ ফকিন্নির বাচ্চাটা না, যে আমাকে আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক বলেছে?”
পোস্টে রুমিন হাসনাতের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের জন্য বেশ কিছু ছবি যুক্ত করেন। এক ছবিতে দেখা যায়, হাসনাত দাঁড়িয়ে আছেন এমন একটি দেয়াললিখনের সামনে, যেখানে লেখা—‘সেই-তো ধন্য যে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।’ আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদে মনোনয়নের একটি চিঠি, যেটি হাসনাতের নামে ইস্যু করা হয়েছে বলে দাবি করেন রুমিন। এছাড়া ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট এবং ১৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকে তার লেখা নিবন্ধের স্ক্রিনশটও পোস্টে সংযুক্ত করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে হাসনাতের ছবিও শেয়ার করা হয়।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য জানতে চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এনসিপি নেতার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোর কর্মকাণ্ড ও বড় দলের নেতাদের প্রতি তাদের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। বিশেষ করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ ইস্যুতে ইসির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আগামী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ঘটনার পটভূমি হিসেবে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত ও মৌখিক আপত্তি জানানো হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি আসনকে কেন্দ্র করে রবিবার অনুষ্ঠিত এই শুনানিতেও বিএনপি এবং এনসিপি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের নেতাদের বক্তব্যে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও দলীয় অতীত টেনে আনা শুরু হয়।
রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রুমিনের তীব্র ভাষার ব্যবহার এবং হাসনাতের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশ্য ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে।











