নিউইয়র্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে হেনস্তার চেষ্টা: কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে উত্তেজনা
- Update Time : ০৫:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- / ১২৮ Time View

যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নিউইয়র্কে এক অপ্রিয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে প্রবেশের সময় আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও হামলার চেষ্টা চালায়। তারা স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং কনস্যুলেট ভবনের দরজা পর্যন্ত ভাঙচুর করে। ঘটনাটি প্রবাসী রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন কনস্যুলেট ভবনের সামনে কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা “জয় বাংলা”, “জয় বঙ্গবন্ধু” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে মাহফুজ আলমকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়া। এ সময় কনস্যুলেট অফিসের কাচের দরজার একটি অংশ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে অনুষ্ঠান
উল্লেখ্য, ওই দিন বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছর পূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “জুলাই সনদে প্রবাসীদের ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমি কোনো দলের রাজনীতির অংশীদার নই। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়া।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করেন। ব্যক্তিগত মতাদর্শের ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।”
অনুষ্ঠান চলাকালে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসীদের নানা জিজ্ঞাসার জবাব দেন তিনি। বাংলাদেশে বিদেশি মিডিয়া বা চ্যানেল বন্ধ করার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কোনো কিছু নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নই। আমি বরাবরই বিকল্প ভালো কিছু প্রস্তাবের পক্ষে কথা বলেছি। আওয়ামী লীগসহ কারও কণ্ঠরোধ করা আমি সমর্থন করি না।”
ভিন্নমত প্রকাশে প্রবাসীদের উত্তেজনা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আগত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। তিনি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ এক সময় রাজতন্ত্রের মতো শাসন ব্যবস্থার কবলে ছিল। সেই সময় প্রবাসীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে আমরা পরিবর্তন এনেছিলাম। আজ যদি কেউ ডিম নিক্ষেপ করে কিংবা কটূক্তি করে, সেটাই প্রমাণ করে আমরা গণতন্ত্রের পথে আছি।”
কনস্যুলেট জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব সমন্বয় করেন। অনুষ্ঠান রাত ১০টার দিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। কনস্যুলেটের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে।
পুলিশ পাহারায় মাহফুজ আলমের প্রস্থান
সন্ধ্যার পর থেকেই কিছু বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সহায়তা নেয়। রাত ১২টার পর পুলিশ পাহারায় মাহফুজ আলম কনস্যুলেট ভবন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যান।
প্রবাসে রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন
এই ঘটনাকে প্রবাসী সমাজে রাজনৈতিক বিভাজনের একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রবাসীদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি বিক্ষোভ, স্লোগান যুদ্ধ এবং কখনও কখনও শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
সফরের গুরুত্ব
সরকারি সফরে মাহফুজ আলম ২৭ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক মহল এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই সফরে জুলাই আন্দোলন ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।











