‘একাত্তরের ক্ষমা চাওয়াসহ অমীমাংসিত ইস্যুর দুইবার সমাধান হয়েছে’ — পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার
- Update Time : ০২:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬৬ Time View

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে দুইবার সমাধান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
রোববার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইসহাক দার বলেন, “১৯৭১ সালের ঘটনাবলির বিষয়ে দুইবার সমাধান হয়েছে—প্রথমটি ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়টি ২০০২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সফরে দুঃখপ্রকাশের মধ্য দিয়ে। তাই এই ইস্যুকে পেছনে ফেলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
ইসহাক দার আরও বলেন, “ইসলাম আমাদের হৃদয় পরিষ্কার রাখতে শিক্ষা দিয়েছে। তাই উভয় দেশের জনগণের উচিত অতীতের ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামনে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে, এবং আমাদের উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।”
এর আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইসহাক দার জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে। এসব চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা ব্যাপক গণহত্যা, নারী নির্যাতন এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বারবার পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ কিছু বিষয়ে সমাধানে পৌঁছালেও বাংলাদেশে অনেকেই মনে করেন, সেই চুক্তি সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।
পরে ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশ সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি সেনাদের কর্মকাণ্ডে “দুঃখ প্রকাশ” করেছিলেন। তবে সেই দুঃখপ্রকাশকে অনেক বাংলাদেশি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে গ্রহণ করেননি। ফলে এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল বিষয় হয়ে আছে।
style="text-align: justify;">দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা
বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। অপরদিকে, বাংলাদেশ পাকিস্তানের টেক্সটাইল, ক্রীড়া সামগ্রী ও কেমিক্যাল পণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে চায়।
ইসহাক দারের এই সফর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, অতীতের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ের জন্যই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে লাভজনক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।











