সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা কি ব্যতিক্রম? ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ এমপির, হাসিনাকে দিয়েই অভিযান শুরুর দাবি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:২৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৭৩ Time View

1 10 2508221049

1 10 2508221049

ভারতে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানোর ইস্যুতে এবার সরাসরি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম টেনে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও লোকসভার সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি দাবি করেছেন, যদি সত্যিই বিজেপি সরকার বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে আন্তরিক হয়, তাহলে অভিযান শুরু হোক শেখ হাসিনাকে দিয়েই।

বৃহস্পতিবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ওয়েইসি বলেন, “শেখ হাসিনা কেন ভারতে রয়েছেন? তিনিও তো বাংলাদেশি। তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো হোক। দেশকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখান থেকেই শুরু হোক।”

শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান বিতর্ক

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানমুখী পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি ভারত গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বসবাস করছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার এ বিষয়ে কখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে তার অবস্থান নিয়েই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েইসি সেই প্রশ্নকেই নতুন মাত্রায় নিয়ে গেলেন।

ওয়েইসির অভিযোগ: দ্বৈত নীতি ভণ্ডামি

হায়দরাবাদের এই সাংসদ বলেন, “একদিকে দেশের ভেতরে বাংলাভাষী দরিদ্র মানুষদের—যাদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ, মালদহ কিংবা মুর্শিদাবাদের নাগরিক—তাদের ধরপাকড় করে পুনে থেকে উড়োজাহাজে কলকাতায় আনা হচ্ছে এবং সীমান্তে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই বলা হচ্ছে তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে এ দেশে রেখে দেওয়া হচ্ছে, যিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। এটা কী ধরনের দ্বৈত নীতি?”

তিনি আরও যোগ করেন, “আজকাল দেশে যেই বাংলায় কথা বলছে তাকেই বাংলাদেশি বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কী ধরনের বিদেশাতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তা এখান থেকে বোঝা যায়। পুলিশকে কে এই অধিকার দিয়েছে যে মানুষকে বন্দিশালায় আটকে রাখবে?”

ভারতবাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন বাস্তবতা

ওয়েইসি কেবল সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি, তিনি বিজেপি সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান জনপ্রিয় অভ্যুত্থানকে ভারত সরকারকে মেনে নিতে হবে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি সত্যিই প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক চাই, তাহলে দ্বিচারিতা ছেড়ে দিয়ে নতুন বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে।”

বিশ্লেষণ

ওয়েইসির এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। বিশেষ করে আসাম NRC (ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস) ইস্যু থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশের একজন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে সরকার নীরব—এ বিষয়টি ওয়েইসি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

তাছাড়া, এ বক্তব্য কেবল বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ নয়; বরং ভারতীয় সমাজে চলমান বিদেশাতঙ্ক, মুসলিম বিরোধী নীতি এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে আসছে। ওয়েইসির যুক্তি হলো, যদি একজন বাংলাদেশি নেত্রীকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়, তবে কেন বাংলাভাষী দরিদ্র জনগণকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেখ হাসিনা কি ব্যতিক্রম? ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ এমপির, হাসিনাকে দিয়েই অভিযান শুরুর দাবি

Update Time : ০৫:২৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

1 10 2508221049

ভারতে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানোর ইস্যুতে এবার সরাসরি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম টেনে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও লোকসভার সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি দাবি করেছেন, যদি সত্যিই বিজেপি সরকার বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে আন্তরিক হয়, তাহলে অভিযান শুরু হোক শেখ হাসিনাকে দিয়েই।

বৃহস্পতিবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ওয়েইসি বলেন, “শেখ হাসিনা কেন ভারতে রয়েছেন? তিনিও তো বাংলাদেশি। তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো হোক। দেশকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখান থেকেই শুরু হোক।”

শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান বিতর্ক

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানমুখী পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। পরবর্তীতে তিনি ভারত গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বসবাস করছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার এ বিষয়ে কখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে তার অবস্থান নিয়েই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েইসি সেই প্রশ্নকেই নতুন মাত্রায় নিয়ে গেলেন।

ওয়েইসির অভিযোগ: দ্বৈত নীতি ভণ্ডামি

হায়দরাবাদের এই সাংসদ বলেন, “একদিকে দেশের ভেতরে বাংলাভাষী দরিদ্র মানুষদের—যাদের অনেকেই পশ্চিমবঙ্গ, মালদহ কিংবা মুর্শিদাবাদের নাগরিক—তাদের ধরপাকড় করে পুনে থেকে উড়োজাহাজে কলকাতায় আনা হচ্ছে এবং সীমান্তে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই বলা হচ্ছে তারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে এ দেশে রেখে দেওয়া হচ্ছে, যিনি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। এটা কী ধরনের দ্বৈত নীতি?”

তিনি আরও যোগ করেন, “আজকাল দেশে যেই বাংলায় কথা বলছে তাকেই বাংলাদেশি বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কী ধরনের বিদেশাতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তা এখান থেকে বোঝা যায়। পুলিশকে কে এই অধিকার দিয়েছে যে মানুষকে বন্দিশালায় আটকে রাখবে?”

ভারতবাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন বাস্তবতা

ওয়েইসি কেবল সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি, তিনি বিজেপি সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান জনপ্রিয় অভ্যুত্থানকে ভারত সরকারকে মেনে নিতে হবে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা যদি সত্যিই প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক চাই, তাহলে দ্বিচারিতা ছেড়ে দিয়ে নতুন বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে।”

বিশ্লেষণ

ওয়েইসির এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিজেপি সরকার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। বিশেষ করে আসাম NRC (ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস) ইস্যু থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশের একজন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে সরকার নীরব—এ বিষয়টি ওয়েইসি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

তাছাড়া, এ বক্তব্য কেবল বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ নয়; বরং ভারতীয় সমাজে চলমান বিদেশাতঙ্ক, মুসলিম বিরোধী নীতি এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিল বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে আসছে। ওয়েইসির যুক্তি হলো, যদি একজন বাংলাদেশি নেত্রীকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়, তবে কেন বাংলাভাষী দরিদ্র জনগণকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?