বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি ২৬ আগস্ট ,সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঁচ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে
- Update Time : ০৭:৫৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬২ Time View

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘনিয়ে এসেছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার মধ্যে বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বিষয়ে আগামী ২৬ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কী?
কোনো বিচারকের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। এই কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি এবং এর সদস্য থাকেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতি। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের নেতৃত্বে কাউন্সিল কাজ করছে, অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
প্রেক্ষাপট
গত বছরের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বিচারকের বিরুদ্ধে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে, বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ বিক্ষোভ মিছিল করে এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির লিগ্যাল উইং বিচারপতিদের অপসারণ দাবি করে সমাবেশ করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেদিন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ঘোষণা দেন, আপাতত ১২ জন বিচারপতিকে কোনো বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না। এর পরপরই ২০ অক্টোবর থেকে তাঁদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়।
ষোড়শ সংশোধনী ও বিচারপতি অপসারণের এখতিয়ার
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে রিভিউ আবেদন করলেও গত বছরের ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করে। এর ফলে বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আবার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে আসে।
style="text-align: justify;">বিচারপতিদের বর্তমান অবস্থা
১২ বিচারপতির মধ্যে বর্তমানে পাঁচজনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন গত ৩০ জানুয়ারি পদত্যাগ করেছেন। বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে মেয়াদ শেষ করায় আর দায়িত্বে নেই। বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ইতিমধ্যে অবসর গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর রাষ্ট্রপতি যথাক্রমে ১৮ মার্চ ও ২১ মে তারিখে অপসারণ করেন।
বর্তমানে বাকি পাঁচ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে এবং আগামী ২৬ আগস্ট তাঁর বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে বিচারপতিদের জবাবদিহি ও অপসারণেaর প্রক্রিয়া সবসময়ই একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের বিষয় হয়ে এসেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর কাউন্সিলের হাতে ক্ষমতা ফিরে আসায় আবারও আলোচনায় এসেছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দলীয় আনুগত্য বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নয়, সমগ্র গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও গভীর প্রভাব ফেলবে।
অনেক আইনজীবী ও নাগরিক সমাজ বলছে, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই তদন্ত কার্যক্রম একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।











