সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিম–সবজি–মুরগির বাজারে অস্থিরতা,ডিম ডজনপ্রতি ১৫০, সবজির দামও আকাশছোঁয়া

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১৬ Time View

73bc32f405289fc6ceeaf8b0fae8753f 68a6a29c10dfa

73bc32f405289fc6ceeaf8b0fae8753f 68a6a29c10dfa

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে প্রবেশ করলেই যেন আগুনছোঁয়া দাম। এক হালি ডিম এখন ৫০ টাকা, ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা। সবজির বাজারেও একই চিত্র—কাঁচা পেঁপে ছাড়া ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

সবজির বাজারে অস্থিরতা

বিক্রেতারা বলছেন, লাগাতার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে।

এদিন বাজারে প্রতি কেজি পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা, ঝিঙ্গা ও ধুন্দল ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও মুলার দামও অস্বাভাবিক রকম বেশি। একেকটি ফুলকপি ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি মুলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে কয়েক দিন আগেও দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি পিস চালকুমড়া ৭০ টাকা, লাউ ১০০, প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ৪০, বেগুন মানভেদে ১০০ থেকে ১৮০, কাঁচা পেঁপে ৪০, কাঁকরোল ১০০, কচুর মুখি ৮০ এবং ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাতাজাতীয় সবজির বাজারেও চাপ রয়েছে। এক আঁটি পুঁইশাক ৪০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০ টাকা এবং কচু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১৪০ টাকা, আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, আর এক হালি লেবুর দাম আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা।

বিক্রেতা ক্রেতার ভিন্ন অভিযোগ

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, এখন তো বৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে পানি জমে সবজি তোলা যাচ্ছে না। উৎপাদন কম হলে দাম বাড়বেই। এখানে দোষ দিয়ে লাভ নেই, শীত এলে আবার দাম কমে যাবে।

ডিমের দামের বিষয়ে প্রশ্ন করলে একই বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা তো আড়ত থেকে বেশি দামে কিনছি। সস্তায় কেনার সুযোগ নেই, তাই খুচরা বাজারেও দামে চাপ পড়ছে।

অন্যদিকে বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পটল আর করলা কিনলাম, কিন্তু দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিক্রেতারা বৃষ্টি আর বন্যার অজুহাত দেখাচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এখন বাজারে যাওয়া মানেই টেনশন।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আবহাওয়া বা সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে প্রতিদিন পণ্যের দাম বাড়া যৌক্তিক নয়। তারা বলছেন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। উৎপাদকের জমি থেকে যে দামে সবজি সংগ্রহ করা হয়, তার তিন থেকে চার গুণ দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। ফলে আসল ভোক্তাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

নিত্যপণ্যের বাজার এভাবে অস্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও সংকটে পড়বে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা, যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বন্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ডিম–সবজি–মুরগির বাজারে অস্থিরতা,ডিম ডজনপ্রতি ১৫০, সবজির দামও আকাশছোঁয়া

Update Time : ১২:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

73bc32f405289fc6ceeaf8b0fae8753f 68a6a29c10dfa

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে প্রবেশ করলেই যেন আগুনছোঁয়া দাম। এক হালি ডিম এখন ৫০ টাকা, ডজনপ্রতি ১৫০ টাকা। সবজির বাজারেও একই চিত্র—কাঁচা পেঁপে ছাড়া ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন  কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

সবজির বাজারে অস্থিরতা

বিক্রেতারা বলছেন, লাগাতার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে।

এদিন বাজারে প্রতি কেজি পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা, ঝিঙ্গা ও ধুন্দল ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীতকালীন সবজি ফুলকপি ও মুলার দামও অস্বাভাবিক রকম বেশি। একেকটি ফুলকপি ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি মুলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে কয়েক দিন আগেও দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি পিস চালকুমড়া ৭০ টাকা, লাউ ১০০, প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ৪০, বেগুন মানভেদে ১০০ থেকে ১৮০, কাঁচা পেঁপে ৪০, কাঁকরোল ১০০, কচুর মুখি ৮০ এবং ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাতাজাতীয় সবজির বাজারেও চাপ রয়েছে। এক আঁটি পুঁইশাক ৪০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০ টাকা এবং কচু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গাজর ১৪০ টাকা, আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, আর এক হালি লেবুর দাম আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা।

বিক্রেতা ক্রেতার ভিন্ন অভিযোগ

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, এখন তো বৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে পানি জমে সবজি তোলা যাচ্ছে না। উৎপাদন কম হলে দাম বাড়বেই। এখানে দোষ দিয়ে লাভ নেই, শীত এলে আবার দাম কমে যাবে।

ডিমের দামের বিষয়ে প্রশ্ন করলে একই বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা তো আড়ত থেকে বেশি দামে কিনছি। সস্তায় কেনার সুযোগ নেই, তাই খুচরা বাজারেও দামে চাপ পড়ছে।

অন্যদিকে বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পটল আর করলা কিনলাম, কিন্তু দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিক্রেতারা বৃষ্টি আর বন্যার অজুহাত দেখাচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এখন বাজারে যাওয়া মানেই টেনশন।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আবহাওয়া বা সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে প্রতিদিন পণ্যের দাম বাড়া যৌক্তিক নয়। তারা বলছেন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। উৎপাদকের জমি থেকে যে দামে সবজি সংগ্রহ করা হয়, তার তিন থেকে চার গুণ দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। ফলে আসল ভোক্তাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।

নিত্যপণ্যের বাজার এভাবে অস্থিতিশীল থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও সংকটে পড়বে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা, যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বন্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পায়।