সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিসিবির লাইনে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মেসের শিক্ষার্থীরাও

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২১৬ Time View

photo collage.png(10)

photo collage.png(10)

হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ায় সাধারণ আয়ের মানুষের সংসার চালানো যেন এক দুর্বিষহ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি—এমনকি শাকসবজি ও ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোরও জীবনযাত্রার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় যারা টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়ানোকে নিজেদের সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করতেন না, তারাও এখন সাশ্রয়ী দামে পণ্য পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু পরিবারের গৃহিণী কিংবা চাকরিজীবীরাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন এই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা বাজারের চড়া দামের কারণে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, মেসের খরচ টানতে গিয়ে তাদের নিয়ম করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—সপ্তাহে অন্তত একদিন একজন শিক্ষার্থী ক্লাস বাদ দিয়ে টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় তেল, ডাল ও চিনি কিনে আনবে। এতে ক্লাস মিস হওয়ার ক্ষতি থাকলেও তারা বলছেন, অন্য কোনো বিকল্প নেই।

টিসিবির শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাক থেকে সীমিত তিনটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে—সয়াবিন তেল (১১৫ টাকা লিটার), মসুর ডাল (৭০ টাকা কেজি) ও চিনি (৮০ টাকা কেজি)। প্রতিজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং এক কেজি চিনি কিনতে পারছেন। তবে লাইনে দাঁড়ানো অনেক শিক্ষার্থী ও ভোক্তার দাবি, মাছ, মাংস ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যও যদি অন্তর্ভুক্ত করা যেত, তাহলে বাজারের চাপে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।

রাজধানীর ট্রাকপয়েন্টগুলোতে দেখা গেছে, সরকারি–বেসরকারি চাকরিজীবী, বেকার যুবক, মেসের শিক্ষার্থী এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরাও লজ্জা–সংকোচ ভুলে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকেই পরিচয় প্রকাশ করতে না চাইলেও স্বীকার করেছেন, আগের মতো বেতনের টাকায় বাজার করা এখন আর সম্ভব নয়। বাজারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদেরকে টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

টিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬৫ লাখ পরিবারের মধ্যে স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ৫৪ লাখ কার্ড। যদিও কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তবে বাজারের সাথে সমন্বয় করে কিছু পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। চলতি মাসের ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনেক স্থানে সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টিসিবির এ কার্যক্রম সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও ছাত্রসমাজকেও প্রতিনিয়ত লাইনে দাঁড়ানোর বাস্তবতায় মানিয়ে নিতে হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

টিসিবির লাইনে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মেসের শিক্ষার্থীরাও

Update Time : ০৫:৪০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

photo collage.png(10)

হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ায় সাধারণ আয়ের মানুষের সংসার চালানো যেন এক দুর্বিষহ চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি—এমনকি শাকসবজি ও ডিমের দামও বেড়ে যাওয়ায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোরও জীবনযাত্রার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় যারা টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়ানোকে নিজেদের সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করতেন না, তারাও এখন সাশ্রয়ী দামে পণ্য পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু পরিবারের গৃহিণী কিংবা চাকরিজীবীরাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন এই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা বাজারের চড়া দামের কারণে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, মেসের খরচ টানতে গিয়ে তাদের নিয়ম করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—সপ্তাহে অন্তত একদিন একজন শিক্ষার্থী ক্লাস বাদ দিয়ে টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় তেল, ডাল ও চিনি কিনে আনবে। এতে ক্লাস মিস হওয়ার ক্ষতি থাকলেও তারা বলছেন, অন্য কোনো বিকল্প নেই।

টিসিবির শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাক থেকে সীমিত তিনটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে—সয়াবিন তেল (১১৫ টাকা লিটার), মসুর ডাল (৭০ টাকা কেজি) ও চিনি (৮০ টাকা কেজি)। প্রতিজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল এবং এক কেজি চিনি কিনতে পারছেন। তবে লাইনে দাঁড়ানো অনেক শিক্ষার্থী ও ভোক্তার দাবি, মাছ, মাংস ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যও যদি অন্তর্ভুক্ত করা যেত, তাহলে বাজারের চাপে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।

রাজধানীর ট্রাকপয়েন্টগুলোতে দেখা গেছে, সরকারি–বেসরকারি চাকরিজীবী, বেকার যুবক, মেসের শিক্ষার্থী এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরাও লজ্জা–সংকোচ ভুলে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকেই পরিচয় প্রকাশ করতে না চাইলেও স্বীকার করেছেন, আগের মতো বেতনের টাকায় বাজার করা এখন আর সম্ভব নয়। বাজারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদেরকে টিসিবির লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

টিসিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬৫ লাখ পরিবারের মধ্যে স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ৫৪ লাখ কার্ড। যদিও কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তবে বাজারের সাথে সমন্বয় করে কিছু পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। চলতি মাসের ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনেক স্থানে সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে পড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টিসিবির এ কার্যক্রম সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও ছাত্রসমাজকেও প্রতিনিয়ত লাইনে দাঁড়ানোর বাস্তবতায় মানিয়ে নিতে হবে।