এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুদক
- Update Time : ০৫:৪৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৭৩ Time View

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েকজন কর্মকর্তা নিজ নামে এবং আত্মীয়-স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যার বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের সম্পদ ও দায়দেনার বিস্তারিত বিবরণী জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, যেসব কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে আছেন—
- সদস্য মো. লুৎফুল আজিম,
- সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সিআইসি) মো. আলমগীর হোসেন,
- যুগ্ম কমিশনার মো. তারিক হাসান,
- অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু,
- কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মো. জিয়া উদ্দিন,
- রেলওয়ে কাস্টমসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান,
- বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুর রশিদ মিয়া,
- কর অঞ্চল-১৬ এর উপকর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম,
- কর অঞ্চল-৮ এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা,
- বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান,
- কর অঞ্চল-১৬ এর উপকর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা,
- সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম,
- নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার,
- অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মামুন মিয়া,
- গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সাহেলা সিদ্দিক,
- কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালের কমিশনার লোকমান আহমেদ,
- কর অঞ্চল-৩ এর কর কমিশনার এম এম ফজলুল হক।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন আরও বলেন, “আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে দেখা যাচ্ছে এই কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবে অর্জিত সম্পদের একটি বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সম্পদের উৎস ও দায়দেনা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জমা দেওয়া বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবেই এনবিআরের এই ১৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদক আশা করছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনবিআর দেশের রাজস্ব আহরণের মূল সংস্থা হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তাদের সততা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তাই দুদকের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।











