ঋণখেলাপি মামলায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- Update Time : ০৫:৫৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪৮ Time View

ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রী নাজনীন মাওলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পাহাড়তলী শাখা থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে না। ব্যাংকের কাছে যে সম্পদ বন্ধক রাখা হয়েছিল, তা নিলামে তোলার চেষ্টা করেও ব্যাংক ব্যর্থ হয়। নিলামে বারবার আহ্বান জানানো হলেও কোনো ক্রেতা এগিয়ে আসেননি।
ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার নথি অনুসারে, তাঁদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬০ কোটি ৭৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, যা খেলাপি অবস্থায় রয়ে গেছে।
আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার ইতিহাস
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক কারণে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গত বছর জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭৬টি মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
একই বছরের ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর গুলশান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
ব্যাংকিং
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঋণখেলাপি হওয়ার ঘটনা শুধু ব্যাংকিং খাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাঁরা বলছেন, ২৬০ কোটিরও বেশি টাকার খেলাপি ঋণ কোনোভাবেই ছোট অঙ্ক নয় এবং এর দায়ভার শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপরই বর্তায়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আসলাম চৌধুরী বিএনপির একজন আলোচিত নেতা হিসেবে পরিচিত। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, ষড়যন্ত্র ও আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। নতুন করে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বিএনপির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের এ নির্দেশ কার্যকর হলে আসলাম চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন করে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। অন্যদিকে, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এ ঘটনাকে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











