‘মৃত ভোটারদের’ সঙ্গে চা পান রাহুল গান্ধীর, তোলপাড় ভারতের রাজনীতিতে
- Update Time : ১২:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১১৮ Time View

ভারতের রাজনীতিতে বিরল এবং বিতর্কিত এক ঘটনার জন্ম দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বিহারের সাতজন ভোটারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ ও চা-আড্ডায় অংশ নিলেন তিনি—যাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাহুল গান্ধী তার নয়াদিল্লির বাসভবনে এই সাতজন ভোটারকে আমন্ত্রণ জানান। চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ—এঁদের প্রত্যেকের পরিচয় সরকারি নথিতে জীবিত হলেও, ভোটার তালিকায় তাদের মৃত দেখিয়ে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস এই সাক্ষাতের ভিডিও প্রকাশ করে এবং রাহুল নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, রাহুল নিজ হাতে অতিথিদের চা পরিবেশন করছেন এবং তাদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কথা বলছেন।
আলোচনার শুরুতেই রাহুল রসিকতার ছলে বলেন, “শুনেছি আপনারা আর বেঁচে নেই।” এক নারী জবাব দেন, “হ্যাঁ, আমাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে।” বিস্মিত রাহুল জানতে চান, “কীভাবে জানলেন?” উত্তরে ওই নারী বলেন, “ভোটার তালিকা যাচাই করেই দেখেছি।” এরপর উপস্থিত রাম ইকবাল রায় নামের এক ভোটার তার আসল ভোটার আইডি কার্ড দেখান, যেখানে জন্মসাল ১৯৫৯ এবং বাবার নাম লক্ষ্মী রায় উল্লেখ আছে।
রাহুল প্রশ্ন তোলেন—এটি কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এরকম আরও বহু মানুষ আছেন? জবাবে একজন জানান, শুধু একটি পঞ্চায়েত এলাকায় অন্তত ৫০ জন ভোটারের একই পরিণতি হয়েছে। আরও জানা যায়, তারা সবাই একই বুথের ভোটার নন; তিন-চারটি ভিন্ন বুথে এরকম ঘটনা ঘটেছে।
একজন নারী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা তার বাড়িতে এসে আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবইয়ের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন সব ঠিক আছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে মৃত ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ভোটাররা বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কেন্দ্র রাঘোপুরের বাসিন্দা।
আলোচনার একপর্যায়ে এক ভোটার বলেন, “মহাজোট মিলে বিহারকে বাঁচাতে হবে।” উত্তরে রাহুল গান্ধী জানান, “আরজেডি ও কংগ্রেস মিলে এই ভোট চুরি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা এটা বন্ধ করব, ভোট চুরি হতে দেব না।”
রাহুল এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “জীবনে কখনো মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে চা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। এই বিশেষ অভিজ্ঞতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।”
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। এর পরপরই নির্বাচন কমিশন তাকে এই অভিযোগের প্রমাণপত্র জমা দিতে বলে এবং প্রমাণ না দিতে পারলে দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেয়। কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলের কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত নথি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।











