বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দামে সীমিত আয়ের মানুষের হাহাকার
- Update Time : ১১:৪৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৯০ Time View

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে এমনভাবে বেড়েছে যে সীমিত আয়ের মানুষ এখন চরম সংকটে পড়েছে। সবজির বাজারে কোনো স্বস্তি নেই—যে সবজি মাত্র এক মাস আগেও ২০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত, সেটি এখন ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে মুরগি, ডিম ও মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ঈদের পর থেকে চালের দামও বাড়তি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। এর মধ্যে পিঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ আরও বিপাকে পড়েছে। শহরের অলিগলির বাজার থেকে শুরু করে বড় বড় কাঁচাবাজার—সবখানেই ক্রেতারা হতাশ হয়ে ফিরছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজির দাম ৭০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচ ১৮০-২২০, করলা ৮০-১০০, বেগুন ১০০-১২০, টমেটো ১৫০-১৮০, গাজর ১৬০, দেশি শসা ১০০ ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০, পটোল, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০-৮০, কচুর লতি ৮০, কচুর ছড়া ৬০-৮০, লাউ ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। নগরীর অলিগলির দোকানগুলোয় অধিকাংশ সবজি ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পিঁয়াজের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে—তিন সপ্তাহ আগেও যেখানে দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা, এখন মানভেদে ৮০-৮৫ টাকা; পাড়ার দোকানে এই দাম ৯০-৯৫ টাকায় পৌঁছেছে।
বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, সবজির সরবরাহ এখন আগের চেয়ে অনেক কম। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি নেই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগের মতো সরবরাহও আসছে না। দীর্ঘ বৃষ্টিতে মাঠের ফসল নষ্ট হয়েছে, বিশেষ করে পিঁয়াজের বড় অংশ পচে গেছে, যার ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দ্রুত দামের পতন ঘটবে না।
ডিমের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ছিল ১২৫-১৩০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারেও একই প্রবণতা—ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০, সোনালি মুরগি ৩০০-৩৩০, সোনালি কক ৩৭০ এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা আশা করছেন, সরবরাহ বাড়লেই দাম কিছুটা কমতে পারে।
চালের বাজারও উল্টো পথে চলছে। ঈদের পর থেকে মিনিকেট ৮৫-৯২, নাজিরশাইল ৮৪-৯০, আর স্বর্ণা ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে—যা কয়েক মাস আগের তুলনায় অনেক বেশি।
মাছের বাজারও একইভাবে ক্রেতাদের জন্য নিরাশাজনক। রুই মাছ ৩৫০-৪০০, কাতলা ৪০০, পাঙাশ ২০০, চিংড়ি ৮০০, তেলাপিয়া ২৫০-২৮০, মাঝারি কই ২৮০-৩০০, দেশি শিং ৭০০-৭৫০ এবং বড় পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষ তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
যারা প্রতিদিন বাজার করেন, তারা বলছেন—এমন পরিস্থিতিতে বাজারে গেলে মনে হয়, প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা নয়, বরং কতটা বাদ দেওয়া যায় সেই হিসাব মেলানোই প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে শিগগিরই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।











