সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের সমাবেশে ডা. তাহেরের সতর্কবার্তা: “আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট তৈরি করবেন না”

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৮৩ Time View

175340 2

175340 2

সরকার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দ্রুত সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সতর্ক করে বলেছেন— দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবেন না, আরেকটি ওয়ানইলেভেনের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট তৈরি করবেন না। আসুন, আলোচনায় বসি এবং সমঝোতার পথ খুঁজি।

তিনি বলেন, জামায়াত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যেতে চায়, কিন্তু তার আগে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রক্রিয়ার সব দিক পরিষ্কার ও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ইলেকশন চাই, সিলেকশন নয়,”—এ মন্তব্য করে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর রোডে (পানির ট্যাংকি সংলগ্ন সড়ক) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

ডা. তাহের বলেন, দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে মতামত দিয়েছে, কেউ সমর্থন করেছে, কেউ ভিন্নমত জানিয়েছে, আবার কেউ শর্তযুক্ত সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু একটি দল বলছে এর কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন— তাহলে কি এই ঘোষণাপত্রের আইনি ভিত্তি আছে, নাকি নেই? সরকার মুখে স্বীকার করছে, কিন্তু বাস্তবে বাস্তবায়ন করছে না। মুখে স্বীকার করে কাজে অস্বীকার করলে সেই প্রতিশ্রুতির কী মানে?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান করতে হবে এবং এর আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে সমালোচনা

জামায়াতের নায়েবে আমীর অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে শুধু একটি রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রকামী অন্যান্য দলগুলো সমর্থন জানাতে পারেনি। কারণ, এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, অতীতের গণহত্যার বিচার এবং নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছে, যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা জাগে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে।

সংস্কার প্রক্রিয়ায়তামাশারঅভিযোগ

ডা. তাহের অভিযোগ করে বলেন, মাসের পর মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক নেতাদের ডেকে সরকার শেষ পর্যন্ত জানিয়েছে যে, তারা সংস্কারের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। তিনি এটিকে জাতির সঙ্গে তামাশা আখ্যা দিয়ে বলেন— জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক উপায় আলী রীয়াজ না দেখালেও আমরা দেখাতে পারবো। আমাদের সেই দায়িত্ব দিন, আমাদের সঙ্গে বসুন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা না করে সংলাপ ও সমঝোতার পথে আসতে।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে জনগণের সমর্থন

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে— দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চান। অথচ একটি দল জনগণের এই মতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ডা. তাহের মন্তব্য করেন— জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে স্বীকার করাই গণতন্ত্রের মূলনীতি। যারা পিআর বুঝতে অক্ষম, তারা রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কিংবা চা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এর অর্থ জেনে নিন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিজয়নগর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াতের সমাবেশে ডা. তাহেরের সতর্কবার্তা: “আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের প্রেক্ষাপট তৈরি করবেন না”

Update Time : ০৫:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

175340 2

সরকার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দ্রুত সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সতর্ক করে বলেছেন— দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবেন না, আরেকটি ওয়ানইলেভেনের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট তৈরি করবেন না। আসুন, আলোচনায় বসি এবং সমঝোতার পথ খুঁজি।

তিনি বলেন, জামায়াত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যেতে চায়, কিন্তু তার আগে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রক্রিয়ার সব দিক পরিষ্কার ও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ইলেকশন চাই, সিলেকশন নয়,”—এ মন্তব্য করে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর রোডে (পানির ট্যাংকি সংলগ্ন সড়ক) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

ডা. তাহের বলেন, দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে মতামত দিয়েছে, কেউ সমর্থন করেছে, কেউ ভিন্নমত জানিয়েছে, আবার কেউ শর্তযুক্ত সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু একটি দল বলছে এর কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন— তাহলে কি এই ঘোষণাপত্রের আইনি ভিত্তি আছে, নাকি নেই? সরকার মুখে স্বীকার করছে, কিন্তু বাস্তবে বাস্তবায়ন করছে না। মুখে স্বীকার করে কাজে অস্বীকার করলে সেই প্রতিশ্রুতির কী মানে?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান করতে হবে এবং এর আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে সমালোচনা

জামায়াতের নায়েবে আমীর অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে শুধু একটি রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রকামী অন্যান্য দলগুলো সমর্থন জানাতে পারেনি। কারণ, এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, অতীতের গণহত্যার বিচার এবং নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছে, যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা জাগে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে।

সংস্কার প্রক্রিয়ায়তামাশারঅভিযোগ

ডা. তাহের অভিযোগ করে বলেন, মাসের পর মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক নেতাদের ডেকে সরকার শেষ পর্যন্ত জানিয়েছে যে, তারা সংস্কারের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। তিনি এটিকে জাতির সঙ্গে তামাশা আখ্যা দিয়ে বলেন— জুলাই ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক উপায় আলী রীয়াজ না দেখালেও আমরা দেখাতে পারবো। আমাদের সেই দায়িত্ব দিন, আমাদের সঙ্গে বসুন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা না করে সংলাপ ও সমঝোতার পথে আসতে।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে জনগণের সমর্থন

দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে— দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চান। অথচ একটি দল জনগণের এই মতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ডা. তাহের মন্তব্য করেন— জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতকে স্বীকার করাই গণতন্ত্রের মূলনীতি। যারা পিআর বুঝতে অক্ষম, তারা রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কিংবা চা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এর অর্থ জেনে নিন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিজয়নগর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।