খেলাপি ঋণের মামলায় এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ক্রোকের আদেশ
- Update Time : ০৩:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩৫ Time View

ব্যাংক এশিয়ার প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মামলায় এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ক্রোক (জব্দ) করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ৫ নম্বর অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তারল্য সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক ব্যাংক এশিয়ার কাছ থেকে ৩৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৪ টাকার ঋণ নেয়। কিন্তু ঋণের মেয়াদ শেষ হলেও এক্সিম ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে ব্যাংক এশিয়া ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৫ এ মামলা দায়ের করে।
বাদীপক্ষের যুক্তি
আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, নালিশি ঋণের বিপরীতে এক্সিম ব্যাংকের কোনো সম্পত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়বদ্ধ করা হয়নি। তবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর অবস্থিত। তারা আরও উল্লেখ করেন, এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা বর্তমানে এতটাই দুর্বল যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এটিকে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে এখনই সম্পত্তি ক্রোক না করলে এ বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
শুনানি শেষে ও নথি পর্যালোচনা করে বিচারক এক্সিম ব্যাংককে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন যে কেন প্রধান কার্যালয় ক্রোক করা হবে না। একই সঙ্গে, আপত্তি বা কারণ না দেখানো পর্যন্ত প্রধান কার্যালয় অস্থায়ীভাবে ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ২১ আগস্ট বিবাদীপক্ষ অর্থাৎ এক্সিম ব্যাংক তাদের লিখিত জবাব দাখিল করবে।
প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে এক্সিম ব্যাংক তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে মার্জার বা একীভূতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই মামলার রায় শুধু ব্যাংক এশিয়ার জন্যই নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক আস্থা, ঋণ আদায়ের সক্ষমতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।













