খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট, বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটে পানিবন্দী ২৫ গ্রাম
- Update Time : ০৬:০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৭৬ Time View

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে উপজেলার ১৮ ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় পরিবারগুলো উঁচু স্থান এবং আশপাশের স্কুল-কলেজের মাঠে আশ্রয় নিয়েছে। তবে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণ ব্যবস্থা প্রথম দফায় কিছু পরিবারকে সাহায্য করলেও, প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়।
মহিষ খোচা, কালমাটি, গোবরধন, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর, গোখুন্ডা, চর গোকন্ডা, হাতীবান্ধার, পারুলিয়া, সানিয়াজান, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ও দহগ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। তলিয়ে গেছে কৃষকের রোপা আমন ক্ষেত, বীজতলা এবং অন্যান্য কৃষিজমি। বন্যাকবলিত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাড়িতে হাঁটু পানি, কেউ কেউ কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, ‘আগামী দুই দিন পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে ৪ থেকে ৫ দিন পর ধীরে ধীরে পানি নেমে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে গজলডোবা ব্যারেজের সবকয়টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তিস্তা ব্যারেজে পানির চাপ বেড়ে যায়, এবং সুরক্ষার জন্য লালমনিরহাটে ৪৪টি গেট খোলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী আমাদের কাছে রয়েছে। যেকোনো সময় ত্রাণের প্রয়োজন হলে আমরা তা দ্রুত বিতরণ শুরু করব।’ তিনি স্থানীয়দের সচেতন থাকার জন্য সতর্ক করেছেন এবং বলেন, পানি বৃদ্ধি কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে, তাই জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।













