একটি ব্যাংকের ৯৫% ঋণ খেলাপি: অর্থ উপদেষ্টার বিস্ফোরক তথ্য
- Update Time : ০৩:২০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ৫১৫ Time View

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং এর বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এই অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত আসেনি, ফলে তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে সরকারের এক বছর পূর্তিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থ পাচারের নতুন চিত্র
ড. সালেহউদ্দিন জানান, সাম্প্রতিক তদন্তে নতুন করে আরও ১০১ জন অর্থ পাচারকারী শনাক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা করে বিদেশে পাচার করেছেন। এর আগে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত ১১ জনের নাম প্রকাশিত হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার মামলা করেছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ব্যাংক খাতের ভয়াবহ চিত্র
অর্থ উপদেষ্টার ভাষায়—
“শুধুমাত্র একটি ব্যাংকের মোট ঋণের ৯৫ শতাংশই খেলাপি। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও তার ঘনিষ্ঠজনরা সব টাকা তুলে নিয়ে পালিয়েছেন।”
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন ব্যাংকের নাম প্রকাশ করা হয়নি, কারণ এতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনীতির সূচক ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
গত এক বছরের অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন—
- আগস্ট থেকে অক্টোবর: প্রায় সব সূচকই নেতিবাচক ছিল
- বর্তমান অবস্থা: সব সূচক ইতিবাচক
- কারণ: সুশাসনের অভাব, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির কারণে আর্থিক খাত গভীর সংকটে পড়েছিল, তবে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে
মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব
- বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮% এর বেশি
- জুলাইয়ে তা ১৪% ছিল
- জুনে তা ৬% এ নামবে বলে আশা করা হচ্ছে
- কর আহরণ আশানুরূপ নয়, তবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হলে তা বাড়বে
- গত এক বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে
টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া
- বড় ধরনের ১১টি মামলা হয়েছে
- পাচারের দেশ চিহ্নিত
- ১২টি দেশের সঙ্গে এমএলএ চুক্তি করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে
- আইনজীবীদের মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা
ড. সালেহউদ্দিন সতর্ক করে বলেন—
“যদি রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাংক খাত সংস্কার উল্টে দেয়, আমানতকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে।”
তার মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা দূর করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।













