সাহায্য না পেয়ে নিহত স্ত্রীর লাশ মোটরবাইকে বেঁধে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি —মানবতার চরম অবক্ষয়ের নির্মম দৃশ্য
- Update Time : ০২:৫২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫০ Time View

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। দুর্ঘটনায় স্ত্রী নিহত হওয়ার পর অসহায় এক স্বামী সাহায্যের জন্য বারবার আকুতি জানালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। শেষপর্যন্ত, তিনি স্ত্রীর লাশ নিজের মোটরসাইকেলের পেছনে ওড়না দিয়ে বেঁধে বৃষ্টিভেজা রাস্তায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। সেই মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে সমাজের সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে নাগপুর-জবলপুর মহাসড়কের ডিওলাপার এলাকায়। অমিত যাদব ও তার স্ত্রী গ্যারাসী যাদব মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের বাইকের পাশ ঘেঁষে ধাক্কা দেয়। আছড়ে পড়ে গিয়ে গ্যারাসী ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক পালিয়ে যায়, আর রাস্তায় শুরু হয় এক অসহায় স্বামীর মরিয়া চেষ্টা।
অমিত হাত তুলে, চিৎকার করে, এমনকি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে একের পর এক গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ থামেনি। কেউ গাড়ি থেকে নামেনি, এক মুহূর্তের জন্যও দেখেনি মাটিতে পড়ে থাকা মরদেহ। ভিজে রাস্তা, অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে একা দাঁড়িয়ে অমিত তখন যেনো মানবতার করুণতম এক প্রতিচ্ছবি।
শেষমেষ, সমস্ত আশা হারিয়ে তিনি স্ত্রীর মরদেহ নিজের মোটরসাইকেলের পেছনে ওড়না দিয়ে শক্ত করে বাঁধেন। তারপর বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। এ সময় কেউ পাশে দাঁড়ায়নি, কিন্তু পথের একাধিক মানুষ ও যাত্রী দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করে। সেই ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ।
পরে হাইওয়ে পুলিশ অমিতকে থামিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাগপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ট্রাকচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে অনেকেই মানবিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা ও জরুরি সেবার ব্যর্থতার নির্মম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অনেকে বলছেন, আধুনিক ভারতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির আড়ালে মানবিক সহানুভূতি ভয়াবহভাবে ক্ষয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—যেখানে দুর্ঘটনার শিকার একজন মানুষ সড়কের মাঝখানে সাহায্য চাইতে চাইতে হাল ছেড়ে দেন, সেখানে আমাদের সভ্যতার আসল মানদণ্ড কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং গোটা সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো এক নির্মম সতর্কবার্তা হয়ে রইল।












