সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাত ভেঙে দেওয়ায় নবজাতকের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা দিতে রুল, চিকিৎসা অবহেলার গুরুতর অভিযোগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১২১ Time View

6338d88332e97f1ed0cbd6893a5bc8d2 6899ac6a22610

6338d88332e97f1ed0cbd6893a5bc8d2 6899ac6a22610

রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ডিসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাত্র সাত দিনের এক নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে না।

সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে চিকিৎসা অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটিও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত তিন মাসের মধ্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

রুলের আবেদনে শিশুটির বাবা মো. নূরের সাফাহ্ জানান, চিকিৎসার নামে তাঁর নবজাতকের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার সূচনা

৩ এপ্রিল, মিরপুরের বাসিন্দা নূরের সাফাহ্ তাঁর সাত দিনের নবজাতককে জন্ডিসে আক্রান্ত অবস্থায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ডা. কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নবজাতককে ফটোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘসময় অবিরাম থেরাপি চালাতে হবে—তাই দিনে মাত্র দুই-তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও শিশুর দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়।

রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানোর পর সকাল ৭টায় শিশুটি গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিল, খাওয়ানোর কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। নার্স জানান, ঘুম ভাঙলে খাওয়ানো হবে।

 

ডিসচার্জের পর চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার

পরদিন সকাল ১০টায় চিকিৎসক জানান, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শিশুকে রিলিজ দেওয়া হবে। ১১টার দিকে শিশুকে মা-বাবার হাতে তুলে দিয়ে জানানো হয়—ডান হাতে ক্যানুলা দেওয়ার কারণে ব্যথা আছে, তাই হাত কম নাড়াতে হবে।

বাসায় পৌঁছে কাঁথা খোলার পর দেখা যায়, শিশুর ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভেঙে গেছে। হাত স্পর্শ করলেই সে প্রচণ্ড কান্না করছিল।

 

হাসপাতালের দায় অস্বীকার পিতার অভিযোগ

শিশুকে সঙ্গে সঙ্গেই আবার ডেলটা মেডিকেলে নেওয়া হলে ডিউটি চিকিৎসক দাবি করেন, বাসায় নেওয়ার পর হাত ভেঙেছে। এমনকি বাবা-মায়ের ওপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

নূরের সাফাহ্ অভিযোগ করেন—

  • হাসপাতাল এক্সরে করার সুবিধা নেই বলে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে।
  • রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং বিষয়টি আড়াল করতে শিশুকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
  • রাত ১২টায় খাওয়ানো সম্ভব হলেও সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অচেতন ছিল।

তিনি বলেন, “এটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। একটি সাত দিনের শিশুকে এমন অবহেলা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হবে—এটি অকল্পনীয়।”

 

হাসপাতালের তদন্ত কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে পরিবার দাবি করছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রকৃত সত্য গোপন করার চেষ্টা হতে পারে।

 

চিকিৎসা অবহেলা: আইনি সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নতুন নয়, তবে নবজাতকের ওপর এ ধরনের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি অত্যন্ত বিরল এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা হ্রাস পাবে।

 

হাইকোর্টের নির্দেশনা পরবর্তী প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের জারি করা রুলে বলা হয়েছে—

  1. কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কারণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
  2. দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানাতে হবে।
  3. তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

এই রুলের মাধ্যমে মামলাটি এখন শুধু একটি চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নে একটি নজিরবহুল মামলায় পরিণত হতে পারে।

 

 

 

রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ডিসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাত্র সাত দিনের এক নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে না।

সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে চিকিৎসা অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটিও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত তিন মাসের মধ্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

রুলের আবেদনে শিশুটির বাবা মো. নূরের সাফাহ্ জানান, চিকিৎসার নামে তাঁর নবজাতকের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার সূচনা

৩ এপ্রিল, মিরপুরের বাসিন্দা নূরের সাফাহ্ তাঁর সাত দিনের নবজাতককে জন্ডিসে আক্রান্ত অবস্থায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ডা. কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নবজাতককে ফটোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘসময় অবিরাম থেরাপি চালাতে হবে—তাই দিনে মাত্র দুই-তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও শিশুর দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়।

রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানোর পর সকাল ৭টায় শিশুটি গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিল, খাওয়ানোর কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। নার্স জানান, ঘুম ভাঙলে খাওয়ানো হবে।

 

ডিসচার্জের পর চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার

পরদিন সকাল ১০টায় চিকিৎসক জানান, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শিশুকে রিলিজ দেওয়া হবে। ১১টার দিকে শিশুকে মা-বাবার হাতে তুলে দিয়ে জানানো হয়—ডান হাতে ক্যানুলা দেওয়ার কারণে ব্যথা আছে, তাই হাত কম নাড়াতে হবে।

বাসায় পৌঁছে কাঁথা খোলার পর দেখা যায়, শিশুর ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভেঙে গেছে। হাত স্পর্শ করলেই সে প্রচণ্ড কান্না করছিল।

 

হাসপাতালের দায় অস্বীকার পিতার অভিযোগ

শিশুকে সঙ্গে সঙ্গেই আবার ডেলটা মেডিকেলে নেওয়া হলে ডিউটি চিকিৎসক দাবি করেন, বাসায় নেওয়ার পর হাত ভেঙেছে। এমনকি বাবা-মায়ের ওপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

নূরের সাফাহ্ অভিযোগ করেন—

  • হাসপাতাল এক্সরে করার সুবিধা নেই বলে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে।
  • রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং বিষয়টি আড়াল করতে শিশুকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
  • রাত ১২টায় খাওয়ানো সম্ভব হলেও সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অচেতন ছিল।

তিনি বলেন, “এটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। একটি সাত দিনের শিশুকে এমন অবহেলা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হবে—এটি অকল্পনীয়।”

 

হাসপাতালের তদন্ত কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে পরিবার দাবি করছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রকৃত সত্য গোপন করার চেষ্টা হতে পারে।

 

চিকিৎসা অবহেলা: আইনি সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নতুন নয়, তবে নবজাতকের ওপর এ ধরনের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি অত্যন্ত বিরল এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা হ্রাস পাবে।

 

হাইকোর্টের নির্দেশনা পরবর্তী প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের জারি করা রুলে বলা হয়েছে—

  1. কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কারণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
  2. দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানাতে হবে।
  3. তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

এই রুলের মাধ্যমে মামলাটি এখন শুধু একটি চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নে একটি নজিরবহুল মামলায় পরিণত হতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাত ভেঙে দেওয়ায় নবজাতকের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা দিতে রুল, চিকিৎসা অবহেলার গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৬:১৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

6338d88332e97f1ed0cbd6893a5bc8d2 6899ac6a22610

রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ডিসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাত্র সাত দিনের এক নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে না।

সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে চিকিৎসা অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটিও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত তিন মাসের মধ্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

রুলের আবেদনে শিশুটির বাবা মো. নূরের সাফাহ্ জানান, চিকিৎসার নামে তাঁর নবজাতকের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার সূচনা

৩ এপ্রিল, মিরপুরের বাসিন্দা নূরের সাফাহ্ তাঁর সাত দিনের নবজাতককে জন্ডিসে আক্রান্ত অবস্থায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ডা. কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নবজাতককে ফটোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘসময় অবিরাম থেরাপি চালাতে হবে—তাই দিনে মাত্র দুই-তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও শিশুর দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়।

রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানোর পর সকাল ৭টায় শিশুটি গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিল, খাওয়ানোর কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। নার্স জানান, ঘুম ভাঙলে খাওয়ানো হবে।

 

ডিসচার্জের পর চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার

পরদিন সকাল ১০টায় চিকিৎসক জানান, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শিশুকে রিলিজ দেওয়া হবে। ১১টার দিকে শিশুকে মা-বাবার হাতে তুলে দিয়ে জানানো হয়—ডান হাতে ক্যানুলা দেওয়ার কারণে ব্যথা আছে, তাই হাত কম নাড়াতে হবে।

বাসায় পৌঁছে কাঁথা খোলার পর দেখা যায়, শিশুর ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভেঙে গেছে। হাত স্পর্শ করলেই সে প্রচণ্ড কান্না করছিল।

 

হাসপাতালের দায় অস্বীকার পিতার অভিযোগ

শিশুকে সঙ্গে সঙ্গেই আবার ডেলটা মেডিকেলে নেওয়া হলে ডিউটি চিকিৎসক দাবি করেন, বাসায় নেওয়ার পর হাত ভেঙেছে। এমনকি বাবা-মায়ের ওপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

নূরের সাফাহ্ অভিযোগ করেন—

  • হাসপাতাল এক্সরে করার সুবিধা নেই বলে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে।
  • রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং বিষয়টি আড়াল করতে শিশুকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
  • রাত ১২টায় খাওয়ানো সম্ভব হলেও সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অচেতন ছিল।

তিনি বলেন, “এটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। একটি সাত দিনের শিশুকে এমন অবহেলা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হবে—এটি অকল্পনীয়।”

 

হাসপাতালের তদন্ত কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে পরিবার দাবি করছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রকৃত সত্য গোপন করার চেষ্টা হতে পারে।

 

চিকিৎসা অবহেলা: আইনি সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নতুন নয়, তবে নবজাতকের ওপর এ ধরনের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি অত্যন্ত বিরল এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা হ্রাস পাবে।

 

হাইকোর্টের নির্দেশনা পরবর্তী প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের জারি করা রুলে বলা হয়েছে—

  1. কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কারণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
  2. দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানাতে হবে।
  3. তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

এই রুলের মাধ্যমে মামলাটি এখন শুধু একটি চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নে একটি নজিরবহুল মামলায় পরিণত হতে পারে।

 

 

 

রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ডিসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাত্র সাত দিনের এক নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে না।

সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে চিকিৎসা অবহেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটিও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত তিন মাসের মধ্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

রুলের আবেদনে শিশুটির বাবা মো. নূরের সাফাহ্ জানান, চিকিৎসার নামে তাঁর নবজাতকের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার সূচনা

৩ এপ্রিল, মিরপুরের বাসিন্দা নূরের সাফাহ্ তাঁর সাত দিনের নবজাতককে জন্ডিসে আক্রান্ত অবস্থায় ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ডা. কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে নবজাতককে ফটোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘসময় অবিরাম থেরাপি চালাতে হবে—তাই দিনে মাত্র দুই-তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করানোর অনুমতি দেওয়া হয়। রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মা ও শিশুর দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়।

রাত ১২টায় স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানোর পর সকাল ৭টায় শিশুটি গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিল, খাওয়ানোর কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। নার্স জানান, ঘুম ভাঙলে খাওয়ানো হবে।

 

ডিসচার্জের পর চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার

পরদিন সকাল ১০টায় চিকিৎসক জানান, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং শিশুকে রিলিজ দেওয়া হবে। ১১টার দিকে শিশুকে মা-বাবার হাতে তুলে দিয়ে জানানো হয়—ডান হাতে ক্যানুলা দেওয়ার কারণে ব্যথা আছে, তাই হাত কম নাড়াতে হবে।

বাসায় পৌঁছে কাঁথা খোলার পর দেখা যায়, শিশুর ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভেঙে গেছে। হাত স্পর্শ করলেই সে প্রচণ্ড কান্না করছিল।

 

হাসপাতালের দায় অস্বীকার পিতার অভিযোগ

শিশুকে সঙ্গে সঙ্গেই আবার ডেলটা মেডিকেলে নেওয়া হলে ডিউটি চিকিৎসক দাবি করেন, বাসায় নেওয়ার পর হাত ভেঙেছে। এমনকি বাবা-মায়ের ওপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

নূরের সাফাহ্ অভিযোগ করেন—

  • হাসপাতাল এক্সরে করার সুবিধা নেই বলে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যেতে বলে।
  • রাতের কোনো এক সময়ে হাত ভেঙেছে এবং বিষয়টি আড়াল করতে শিশুকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল।
  • রাত ১২টায় খাওয়ানো সম্ভব হলেও সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অচেতন ছিল।

তিনি বলেন, “এটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। একটি সাত দিনের শিশুকে এমন অবহেলা এবং অমানবিক আচরণের শিকার হতে হবে—এটি অকল্পনীয়।”

 

হাসপাতালের তদন্ত কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঁচ সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে পরিবার দাবি করছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রকৃত সত্য গোপন করার চেষ্টা হতে পারে।

 

চিকিৎসা অবহেলা: আইনি সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নতুন নয়, তবে নবজাতকের ওপর এ ধরনের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি অত্যন্ত বিরল এবং জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা হ্রাস পাবে।

 

হাইকোর্টের নির্দেশনা পরবর্তী প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের জারি করা রুলে বলা হয়েছে—

  1. কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কারণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
  2. দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানাতে হবে।
  3. তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

এই রুলের মাধ্যমে মামলাটি এখন শুধু একটি চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নে একটি নজিরবহুল মামলায় পরিণত হতে পারে।