দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন আসছে: তারেক রহমান
- Update Time : ০৯:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫০ Time View

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অধ্যায় হতে চলেছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদলের লড়াই নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।
অতীতের সতর্কবার্তার পুনঃস্মরণ
নওগাঁ কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ১১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরশাসক পতনের কয়েক দিনের মধ্যেই আমি বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। তখন অনেকেই ভাবছিলেন, প্রতিপক্ষ কার্যত মাঠে নেই— তাহলে নির্বাচন কি আর কঠিন হবে? কিন্তু আমি তখনই বলেছিলাম, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে ‘অদৃশ্য শক্তি’ নানাভাবে সক্রিয়, দেশকে একটি অস্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। “আজ কি আপনারা সেই কথার অর্থ বুঝতে পারছেন?”— প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, “আজকের পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, অদৃশ্য হাতগুলো কতটা সক্রিয় এবং তারা কীভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
ঐক্যের গুরুত্ব ও সাফল্যের শর্ত
তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, যদি বিএনপি নামক পরিবারটির প্রতিটি সদস্য আত্মত্যাগ ও ঐক্যের পথে অটল থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবো। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও জনগণের সমর্থন।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, মাঠ পর্যায়ে অবস্থান বজায় রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে হবে এবং আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি সমান্তরালে চালিয়ে যেতে হবে। “আমাদের সংগ্রাম শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের জন্য নয়; এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনঃপ্রাপ্তি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিএনপির জন্য শুধু মনোবল বৃদ্ধির বার্তা নয়, বরং একটি কৌশলগত নির্দেশনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে— বিরোধী দলের উপর দমননীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ— তার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে শুধু রাজনৈতিক প্রস্তুতিই যথেষ্ট হবে না, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠবে।
শেষ বার্তা
সম্মেলনের শেষভাগে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, “এই লড়াই দীর্ঘ হতে পারে, কঠিন হতে পারে, কিন্তু যদি আমরা সত্যিকারের ঐক্যবদ্ধ থাকি এবং জনগণের পাশে দাঁড়াই— বিজয় অনিবার্য। গণতন্ত্রের এই যাত্রা থেমে থাকার জন্য নয়, বরং এগিয়ে যাওয়ার জন্য।”












