আনিসার পরীক্ষায় বসা নিয়ে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ‘ঘটনার সত্যতা মেলেনি’
- Update Time : ০২:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩৬ Time View

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সময়মতো কেন্দ্রে না পৌঁছানোর কারণে এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, তার দেওয়া ঘটনার বিবরণ এবং মায়ের অসুস্থতা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সূচনা
এইচএসসির প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আনিসা। তার দাবি ছিল—পরীক্ষার দিন সকালে মাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল, তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সরকারি বাঙলা কলেজ কেন্দ্রে তার কান্না ও দৌড়ঝাঁপের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। নেটিজেনরা ব্যাপক সহানুভূতি জানিয়ে আনিসাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলেন।
এই দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড প্রাথমিকভাবে আনিসাকে পরীক্ষায় বসানোর ঘোষণা দেয়। তবে পরবর্তীতে ঘটনাটি যাচাই করতে দুইটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়—একটি ঢাকা বোর্ডের পক্ষ থেকে, আরেকটি আনিসার কেন্দ্র সরকারি বাঙলা কলেজের পক্ষ থেকে।
তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছে
দুই কমিটির তদন্তে আনিসার দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আনিসার মা ওই হাসপাতালের নিয়মিত রোগী হলেও, সেদিন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন—এমন তথ্য প্রমাণিত হয়নি। এমনকি যে ভর্তি স্লিপ দেখানো হয়েছিল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটির অনুরোধে তারা হাসপাতালের স্লিপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য আনিসার কাছ থেকে সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু যদি শিক্ষার্থী ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে থাকে, তা যাচাই করার দায়িত্ব কমিটির, এবং সেই যাচাইয়ে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বোর্ডের
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, এখন পর্যন্ত আনিসাকে বিশেষভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় যদি সে ৬৬ নম্বর পায়, তবে প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র মিলিয়ে পাস হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, প্রথমপত্র না দিয়েও বাংলা বিষয়ে পাস করার সুযোগ থাকছে—যদি দ্বিতীয়পত্রে প্রয়োজনীয় নম্বর অর্জিত হয় এবং বাকি বিষয়গুলোতেও সে পাস করে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও, তদন্তের ফলাফলে ভিন্ন চিত্র উঠে আসায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন। কেউ কেউ এটিকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন যে, মানবিক দিক বিবেচনা করে বোর্ডের আরও নমনীয় হওয়া উচিত ছিল।











