সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৮ জন, ৭ জন গ্রেপ্তার: জিএমপি কমিশনার
- Update Time : ০৫:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬৭ Time View

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান জানিয়েছেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ৮ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আর একজন এখনও পলাতক।
শনিবার (৯ আগস্ট) গাজীপুর মেট্রোপলিটনে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের অনৈতিক কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ করার কারণেই সাংবাদিক তুহিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এটি একটি চরম নৃশংসতা ও গণমাধ্যম স্বাধীনতার ওপর আঘাত। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।“
গ্রেপ্তার ও শনাক্ত হওয়া আসামির তালিকা
সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনাক্ত ৮ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
- কেটু মিজান: মামলার প্রধান আসামি, যার নামে রয়েছে ১৫টি মামলা, অধিকাংশই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- পারুল আক্তার ওরফে গোলাপি: কেটু মিজানের স্ত্রী, যিনি হানিট্র্যাপ চক্রে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- আল আমিন: তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা।
- স্বাধীন: পূর্বে ২টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত।
- শাহজালাল: ৮টি মামলা রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সম্পর্কিত।
- ফয়সাল হাসান সাব্বির: ২টি মামলা রয়েছে, যার একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়া আরমান নামে এক আসামি এখনো পলাতক, যাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রমাণ ও তদন্ত অগ্রগতি
কমিশনার নাজমুল করিম জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি এবং অন্যান্য শারীরিক প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও ডিজিটাল প্রমাণ পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
সামাজিক
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে এদের মধ্যে অনেকে অপরাধ জগতে পা দিচ্ছে, যা শহরের আইনশৃঙ্খলার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
জিএমপি কমিশনার বলেন, “গাজীপুরকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।“
তিনি স্বীকার করেন যে, জনসংখ্যার তুলনায় ফোর্সের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, যার কারণে শতভাগ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে গাজীপুরে অপরাধ চক্রের কার্যক্রম দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যার ঘটনা নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগজনক প্রতিফলন। মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে একদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে, অন্যদিকে অপরাধীদের জন্য এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।












