ঢাকা থেকে প্রবাসীকে আনার পথে দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৭ জন নিহত
- Update Time : ১১:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫২ Time View

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা পুরো এলাকা ও দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবাই ছিলেন একই পরিবারের সদস্য এবং তারা ওমান প্রবাসী এক স্বজনকে আনতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। স্বজনকে নিয়ে বিমানের মাধ্যমে দেশে ফেরার আনন্দ যে এমন শোকাবহ ঘটনায় রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
জানা গেছে, নিহতরা দুটি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম চৌপালী গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। একটি প্রাইভেটকার এবং অন্যটি একটি হাইস মাইক্রোবাসে যাত্রা চলছিল। পথে ভোর রাতের অন্ধকারে বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খালে পড়ে যায়। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা সাতজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করেছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—ফয়জুন নেসা (৮০), খুরশিদা বেগম (৫৫), কবিতা বেগম (৩০), লাবনী বেগম (৩০), রেশমি আক্তার (১০), মীম আক্তার (২) ও লামিয়া আক্তার (৯)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার হাজীরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চৌপালী এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের এই সাত সদস্যের মৃত্যুতে পুরো গ্রাম আজ শোকের মাতমে স্তব্ধ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাটি ভোররাতের দিকে ঘটে। অন্ধকার থাকায় প্রথমে কেউ কিছু বুঝতে পারেনি। মাইক্রোবাসটি খালে পড়ে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে থাকা যাত্রীদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে এবং উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে গাড়িটি পানির নিচে ডুবে থাকায় তাদের উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একত্রে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িচালক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন গাড়ি থেকে বের হতে পারলেও সাতজন বের হতে না পেরে ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, “আমরা প্রথমে দুটি মরদেহ পেয়েছিলাম, পরে উদ্ধার অভিযানে আরও পাঁচজনের মরদেহ আনা হয়। সবাই ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লিটন দেওয়ান জানান, রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি খাল থেকে তোলা হয়েছে এবং নিশ্চিত করা হয়েছে যে ভেতরে আর কোনো মরদেহ নেই।
এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতদের গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে আজ শোকের ছায়া। এলাকাবাসী জানান, যে প্রবাসী স্বজনকে নিয়ে এই আনন্দযাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পুরো পরিবারকে শোকে ডুবিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন, দীর্ঘ দূরত্বে যাত্রাকালে চালকদের জন্য যথেষ্ট বিশ্রামের ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।












