বিকেলে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ, রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- Update Time : ০২:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৬১ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ ৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” উপলক্ষে ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন এবং রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
প্রেস উইংয়ের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আজ বিকেল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন ড. ইউনূস। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধারা এবং বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
সরাসরি সম্প্রচারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ
ঘোষণাপত্র পাঠের কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করবেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তিনি তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনব্যাপী আয়োজন
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব আয়োজনে থাকবে দেশের প্রথিতযশা শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ।
এ উপলক্ষে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, “এই দিনটি কেবল একটি দিবস নয়, এটি গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার শপথের দিন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনের স্বপ্ন ও সংগ্রামের জন্য এক কণ্ঠে উচ্চারণ করতে হবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমতার প্রত্যয়।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের প্রতীক, যা জনতার প্রতিবাদ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ন্যায়ের দাবিতে রাজপথে রক্তদানের এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দিনে আন্দোলনরত নাগরিক সমাজ ও ছাত্র-যুবকদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ, যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সূচনা ঘটে।
এ বছরের ৫ আগস্টে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণকে স্মরণ করে ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে ভাষণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জাতির প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে। আজকের ঘোষণাপত্র এবং ভাষণ হয়তো সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিকনির্দেশনার সূচনা হতে পারে।













