প্রায় তিন লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী নেবে অস্ট্রেলিয়া, অগ্রাধিকারে থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
- Update Time : ০৬:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩১ Time View

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ আসনের সংখ্যা ৯ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার। সোমবার (৪ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তালিকায় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলভুক্ত আবেদনকারীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে।
অস্ট্রেলিয়ায় চলতি বছর অভিবাসনের চাপ এবং আবাসনের সংকট মোকাবেলায় সীমিতকরণ নীতি গ্রহণ করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার আসন। কিন্তু সরকারের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুফল পাওয়া যাচ্ছে বলেই নতুন করে আরও ২৫ হাজার আসন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোভিড–পরবর্তী শিক্ষার্থী স্রোত এবং নিয়ন্ত্রণ
২০২৩ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৬ লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার্থী ভিসা দেয়, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে এক রেকর্ড পরিমাণ। ওই সময় চীন ও ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করে। এই দ্রুতগতির প্রবাহ দেশটির অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব আনলেও, একইসঙ্গে সৃষ্টি করে আবাসন সংকট, নাগরিক সেবার চাপ ও অভিবাসন বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার একদিকে যেমন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ভিসা ফি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করেছে এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর নানা সুযোগ–সুবিধায় কঠোরতা এনেছে। সরকার জানায়, নিয়মের ‘ফাঁক-ফোকর’ বন্ধ করার মাধ্যমে তারা শিক্ষাব্যবস্থাকে গঠনমূলক ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করতে চায়।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়াকে অগ্রাধিকার কেন?
অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নেতৃত্বাধীন প্রশাসন চীনের ওপর দেশটির অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর কৌশল হিসেবে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশগুলো—যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড—অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা, ব্যবসা ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সুতরাং, শিক্ষা খাতের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মানুষের বিনিময়, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশলও এই নতুন নীতির অন্তর্ভুক্ত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রভাব
নতুন শিক্ষার্থী প্রবেশের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবাহ বাড়বে। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাত থেকে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসন, কর্মসংস্থান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে এই সেক্টরে ভারসাম্য হারাতে পারে।
সরকার আশাবাদী, নতুন সীমিতকরণ ও লক্ষ্যভিত্তিক এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাতকে আরও টেকসই ও কৌশলগতভাবে পরিচালিত করতে পারবে, যেখানে অর্থনৈতিক সুবিধা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।
এই ঘোষণা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল, যারা এখন অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি সুযোগ ও অগ্রাধিকার পাওয়ার আশা করতে পারে।













