অবশেষে শেখ মুজিবের ছবি সরিয়ে ফেললেন সোনারঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা
- Update Time : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৪২ Time View

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশ চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অফিস কক্ষে ঝুলিয়ে রাখা নিয়ে সম্প্রতি সৃষ্টি হয় বিতর্ক ও উত্তেজনা। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতীক বা ব্যক্তিত্বের ছবি টানানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। এরই মধ্যে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ফোন কলের পর অবশেষে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিন।
প্রধান শিক্ষিকা শামিমা ইয়াছমিন গণমাধ্যমকে জানান, “বিকেলে শিক্ষা অফিস থেকে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীনের ফোন পেয়েই আমি ছবিটি খুলে ফেলেছি এবং বিদ্যালয়ের একটি আলমারির ওপরের কক্ষে তা রেখে দিয়েছি।” তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি নিজে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি অপসারণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, “আমার বাবা মইনুদ্দিন মাস্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি বঙ্গবন্ধুর ছবি নামাবো না। কেউ নামাতে চাইলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করি এবং গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। তার অপমান কখনোই কাম্য নয়।”
এই প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই, তবে পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমি বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষিকাকে বলি এবং তিনি নিজ উদ্যোগে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্কও ছড়িয়ে পড়ে। নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দলের নেতার ছবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টানিয়ে রাখা রাজনৈতিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাস গঠনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অবদান রেখেছেন, এবং সেই ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে সব জাতীয় নেতার প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলাম টুটুল এ বিষয়ে বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেবল শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি টানিয়ে রেখেছে। যেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্য কোনো দলের কোনো ভূমিকা ছিল না—এমন ইতিহাস তৈরি করা হয়েছে। আমরা এই একচেটিয়া ইতিহাস চর্চার বিরোধিতা করছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।”
এই ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পক্ষপাতমুক্ত ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেবে, সেই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার নতুন আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।













