সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেন ভারতের সাবেক এমপি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১৪ Time View

bjp 20250803105551

bjp 20250803105551

গৃহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছিল। অবশেষে ২ আগস্ট, শনিবার, বিচারক সন্তোষ গজানন ভাটের নেতৃত্বাধীন এমপি-এমএলএদের জন্য গঠিত বিশেষ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া রায়

আদালতের রায়ে প্রজ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও ১১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নারী প্রজ্বলের পরিবারের মালিকানাধীন একটি ফার্ম হাউস বা অবকাশযাপন কেন্দ্রে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রজ্বল। নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “আমার একটি পরিবার আছে, আমি ছয় মাস ধরে মা-বাবাকে দেখিনি। দয়া করে আমাকে কম শাস্তি দিন।” তবে বিচারক তার আবেদনে কর্ণপাত করেননি, বরং অপরাধের গুরুত্ব প্রভাব বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রদান করেন।

অতীতের অভিযোগ মামলা

২০২৪ সালের মে মাসে প্রজ্বলের বিরুদ্ধে চারটি ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মামলা দায়ের হয় কর্ণাটকের হাসান জেলাতে। এই মামলার অন্যতম কারণ ছিল একাধিক ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রজ্বল ইউরোপে পালিয়ে যান, এবং সেখান থেকে জার্মানিতে অবস্থানকালেই তাকে গ্রেফতার করে ভারত ফেরত আনা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে তিনি কারাবন্দি

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিতর্ক

এই রায়ের পর প্রজ্বলের পরিবার এবং তার রাজনৈতিক দল জনতা দল (সেকুলার) অভিযোগ করেছে যে, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাদের দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকার এ মামলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিককে হেয় করতে। তবে, আদালত এবং প্রসিকিউশন পক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে যে, এই মামলাটি আপরাধের

গুরুত্ব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে, এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

নির্বাচনী পরিণতি

প্রজ্বল রেভান্না ২০১৯ সালে কর্ণাটকের হাসান লোকসভা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু যৌন নিপীড়ন ও ব্যক্তিগত বিতর্কের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এই মামলার কারণেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামাজিক বার্তা প্রভাব

ভারতের রাজনীতিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাস্তির এমন দৃষ্টান্ত বিরল। এই রায় সমাজে একটি জোরালো বার্তা দিচ্ছে যে, প্রভাবশালী বা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও আইন সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য। নারী অধিকারকর্মীরা এই রায়কে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ভুক্তভোগীদের সাহস ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা শুধুই একটি আইনি রায় নয়—এটি নারী অধিকার, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই রায়ের মাধ্যমে ভারতের বিচারব্যবস্থা দেখিয়েছে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেন ভারতের সাবেক এমপি

Update Time : ১১:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

bjp 20250803105551

গৃহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছিল। অবশেষে ২ আগস্ট, শনিবার, বিচারক সন্তোষ গজানন ভাটের নেতৃত্বাধীন এমপি-এমএলএদের জন্য গঠিত বিশেষ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

বিচারিক প্রক্রিয়া রায়

আদালতের রায়ে প্রজ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও ১১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নারী প্রজ্বলের পরিবারের মালিকানাধীন একটি ফার্ম হাউস বা অবকাশযাপন কেন্দ্রে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে বলা হয়।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রজ্বল। নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “আমার একটি পরিবার আছে, আমি ছয় মাস ধরে মা-বাবাকে দেখিনি। দয়া করে আমাকে কম শাস্তি দিন।” তবে বিচারক তার আবেদনে কর্ণপাত করেননি, বরং অপরাধের গুরুত্ব প্রভাব বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রদান করেন।

অতীতের অভিযোগ মামলা

২০২৪ সালের মে মাসে প্রজ্বলের বিরুদ্ধে চারটি ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মামলা দায়ের হয় কর্ণাটকের হাসান জেলাতে। এই মামলার অন্যতম কারণ ছিল একাধিক ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রজ্বল ইউরোপে পালিয়ে যান, এবং সেখান থেকে জার্মানিতে অবস্থানকালেই তাকে গ্রেফতার করে ভারত ফেরত আনা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে তিনি কারাবন্দি

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিতর্ক

এই রায়ের পর প্রজ্বলের পরিবার এবং তার রাজনৈতিক দল জনতা দল (সেকুলার) অভিযোগ করেছে যে, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাদের দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকার এ মামলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিককে হেয় করতে। তবে, আদালত এবং প্রসিকিউশন পক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে যে, এই মামলাটি আপরাধের

গুরুত্ব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে, এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

নির্বাচনী পরিণতি

প্রজ্বল রেভান্না ২০১৯ সালে কর্ণাটকের হাসান লোকসভা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু যৌন নিপীড়ন ও ব্যক্তিগত বিতর্কের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এই মামলার কারণেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামাজিক বার্তা প্রভাব

ভারতের রাজনীতিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাস্তির এমন দৃষ্টান্ত বিরল। এই রায় সমাজে একটি জোরালো বার্তা দিচ্ছে যে, প্রভাবশালী বা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও আইন সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য। নারী অধিকারকর্মীরা এই রায়কে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ভুক্তভোগীদের সাহস ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দেওয়া যাবজ্জীবন সাজা শুধুই একটি আইনি রায় নয়—এটি নারী অধিকার, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই রায়ের মাধ্যমে ভারতের বিচারব্যবস্থা দেখিয়েছে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হয়।