ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষ্য দিতে হাজির সাবেক আইজিপি মামুন
- Update Time : ১১:০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ২০১ Time View

জুলাই-আগস্টের ভয়াবহ ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রোববার (৩ আগস্ট) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন। এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সূত্র জানায়, মামলাটির শুনানি শুরু হয়েছে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এদিন সকালেই রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য প্রদান করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এই বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল সূত্র। সূচনা বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম।
রাজসাক্ষী হলেও নিজেই এক সময়ের অভিযুক্ত
যদিও মামলায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর নাম অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এই অবস্থান পরিবর্তন প্রসিকিউশনের কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন আইনি বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, মামুনের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২4 সালের জুলাই–আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন, যা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তখনকার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি মামুন যৌথভাবে ১,৪০০ জন ছাত্র ও সাধারণ নাগরিককে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তা প্রদান করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলাকে একটি ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে বিবেচনা করছে, যেটি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো একে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান বলে উল্লেখ করলেও, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। দলের মুখপাত্ররা এই মামলাকে ‘সংবিধান,
অপরদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও এই মামলার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে, বিচার যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রমের গুরুত্ব
এই মামলায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাক্ষ্য ফৌজদারি প্রক্রিয়ায় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার অভ্যন্তরীণ তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকায় আলোকপাত, এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার অন্তর্গত বাস্তবতা প্রকাশের মাধ্যমে মামলার রূপ পরিবর্তন হতে পারে।
বিচার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, গণতন্ত্র এবং ইতিহাসের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, রাজসাক্ষীর জবানবন্দি কীভাবে মামলা এবং জনমতের গতিপথ নির্ধারণ করে।













