সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ এমডির বিদেশ পলায়নের গুঞ্জন, গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৯৬ Time View

b3129ba688f0649b27db1b92707891ce 688ed831da910

b3129ba688f0649b27db1b92707891ce 688ed831da910

দেশের অন্যতম ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রশিদ শত কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ পালিয়ে গেছেন—এমন গুঞ্জনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক, টিকিট বিক্রেতা এবং ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দাবি করছেন, তারা অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন, কিন্তু এখন সেই অর্থ বা টিকিট কোনোটিই আর পাচ্ছেন না।

গ্রাহকদের ভিড় হতাশা

এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকার মতিঝিলে ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসে অসংখ্য গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা জড়ো হতে থাকেন। তাদের অধিকাংশই দাবি করছেন, তারা অগ্রিম অর্থ প্রদান করে টিকিট বুকিং করেছিলেন, কিন্তু এখন অফিস বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, কোনো সাড়া মিলছে না, এবং কর্তৃপক্ষের কেউই যোগাযোগ করছে না।

গ্রাহকদের একজন বলেন, “আমি ১০ লাখ টাকার টিকিট বুকিং দিয়েছিলাম। এখন দেখি, অফিস তালাবদ্ধ, ফোনও বন্ধ। আমরা কোথায় যাবো?” এমন বহু অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পুলিশের বক্তব্য

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, “ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডি অফিসে আসছেন না, আত্মগোপনে আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এমনকি কেউ কেউ বলছেন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। মৌখিকভাবে কয়েকজন এসেছিলেন। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জিডি আইনি অগ্রগতি

ওসি আরও জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট এক্সপার্টের হেড অব কমার্শিয়াল সাঈদ আহমেদ মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানা যায়।

বিনিয়োগ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি ও ব্যক্তিগত গ্রাহকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ অগ্রিম বুকিংয়ের নামে গ্রহণ করেছে। দেশে এবং বিদেশে টিকিট, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা সার্ভিসের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করা প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বড় বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করে।

কিন্তু হঠাৎ করে এমডির অন্তর্ধান এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লিখেছেন, “বিশ্বাস করে যাদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলাম, তারা আজ নিরুদ্দেশ। এখন কোথায় যাবো, কে দায় নেবে?”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে আস্থার বড় সংকট তৈরি করবে। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

এখন সকলের নজর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকে। তারা কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করে, সেটাই দেখার বিষয়। এই ঘটনা আমাদের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতে আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার দাবি তুলে ধরেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গ্রাহকের শত কোটি টাকা নিয়ে ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ এমডির বিদেশ পলায়নের গুঞ্জন, গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ

Update Time : ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

b3129ba688f0649b27db1b92707891ce 688ed831da910

দেশের অন্যতম ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রশিদ শত কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ পালিয়ে গেছেন—এমন গুঞ্জনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক, টিকিট বিক্রেতা এবং ট্রাভেল এজেন্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দাবি করছেন, তারা অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন, কিন্তু এখন সেই অর্থ বা টিকিট কোনোটিই আর পাচ্ছেন না।

গ্রাহকদের ভিড় হতাশা

এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকার মতিঝিলে ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসে অসংখ্য গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা জড়ো হতে থাকেন। তাদের অধিকাংশই দাবি করছেন, তারা অগ্রিম অর্থ প্রদান করে টিকিট বুকিং করেছিলেন, কিন্তু এখন অফিস বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, কোনো সাড়া মিলছে না, এবং কর্তৃপক্ষের কেউই যোগাযোগ করছে না।

গ্রাহকদের একজন বলেন, “আমি ১০ লাখ টাকার টিকিট বুকিং দিয়েছিলাম। এখন দেখি, অফিস তালাবদ্ধ, ফোনও বন্ধ। আমরা কোথায় যাবো?” এমন বহু অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পুলিশের বক্তব্য

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, “ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডি অফিসে আসছেন না, আত্মগোপনে আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এমনকি কেউ কেউ বলছেন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। মৌখিকভাবে কয়েকজন এসেছিলেন। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জিডি আইনি অগ্রগতি

ওসি আরও জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট এক্সপার্টের হেড অব কমার্শিয়াল সাঈদ আহমেদ মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জানা যায়।

বিনিয়োগ

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি ও ব্যক্তিগত গ্রাহকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ অগ্রিম বুকিংয়ের নামে গ্রহণ করেছে। দেশে এবং বিদেশে টিকিট, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা সার্ভিসের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করা প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে বড় বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করে।

কিন্তু হঠাৎ করে এমডির অন্তর্ধান এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লিখেছেন, “বিশ্বাস করে যাদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলাম, তারা আজ নিরুদ্দেশ। এখন কোথায় যাবো, কে দায় নেবে?”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে আস্থার বড় সংকট তৈরি করবে। সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

এখন সকলের নজর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকে। তারা কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করে, সেটাই দেখার বিষয়। এই ঘটনা আমাদের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাতে আরো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার দাবি তুলে ধরেছে।