সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খিলক্ষেতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ইভেন্ট: ২৬ জন গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৪৯ Time View

f2763592c35750f1402a7783b70e2e8c 688f420a85259

f2763592c35750f1402a7783b70e2e8c 688f420a85259
 ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান

 

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা এলাকার কেবি কনভেনশন হলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে আসা নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়ার পর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গভীরভাবে নজরে নেয়। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রবিবার (৩ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, “বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন হলে সংগঠিত অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না—পুলিশ সন্দেহ করছে সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাও হতে পারে।” এ কারণে ঘটনাটির তদন্ত আরও গভীরভাবে চলছে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিসি তালেবুর রহমান জানান, “আমরা আরও কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি, যারা ওই প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র এই প্রশিক্ষণ ইভেন্টের সূত্র ধরেই গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের আরও ২১ জন নেতাকর্মীকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এদের কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও গোপন বৈঠকে জড়িত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

রাজধানীতে আসন্ন যেকোনো সভা-সমাবেশ ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ডিএমপি জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট সিটিটিসিসাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছে। যে কোনো ধরনের অরাজকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ রয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায়, বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ডিসি তালেবুর রহমান।

প্রেক্ষাপট:

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরকার সমর্থিত সংগঠনের তৎপরতা এবং পাল্টা অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই ধরপাকড় ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বসুন্ধরার মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ঘনীভূত করেছে।

অভিযুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তের পর জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সংঘাতের আভাস বহন করতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

খিলক্ষেতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ইভেন্ট: ২৬ জন গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

Update Time : ০৬:১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
f2763592c35750f1402a7783b70e2e8c 688f420a85259
 ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান

 

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা এলাকার কেবি কনভেনশন হলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে আসা নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়ার পর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গভীরভাবে নজরে নেয়। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রবিবার (৩ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, “বসুন্ধরার কেবি কনভেনশন হলে সংগঠিত অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না—পুলিশ সন্দেহ করছে সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাও হতে পারে।” এ কারণে ঘটনাটির তদন্ত আরও গভীরভাবে চলছে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিসি তালেবুর রহমান জানান, “আমরা আরও কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি, যারা ওই প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র এই প্রশিক্ষণ ইভেন্টের সূত্র ধরেই গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের আরও ২১ জন নেতাকর্মীকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এদের কেউ কেউ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ও গোপন বৈঠকে জড়িত ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।

রাজধানীতে আসন্ন যেকোনো সভা-সমাবেশ ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ডিএমপি জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট সিটিটিসিসাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা নজরদারি জোরদার করেছে। যে কোনো ধরনের অরাজকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ রয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায়, বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ডিসি তালেবুর রহমান।

প্রেক্ষাপট:

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরকার সমর্থিত সংগঠনের তৎপরতা এবং পাল্টা অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই ধরপাকড় ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বসুন্ধরার মতো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ ঘনীভূত করেছে।

অভিযুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তের পর জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সংঘাতের আভাস বহন করতে পারে।