কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না: গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা
- Update Time : ০৫:৫২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩৪ Time View

কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না—এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক নয় বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়, এবং তার যৌক্তিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা বৃত্তি পরীক্ষাটি একটি প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ’ একটি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে যে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানায়, এই দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান, যাদের জন্য এই বৃত্তি একটি আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে। পক্ষান্তরে, কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের পেছনে সচরাচর অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবার থাকে, যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করায়।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, কিন্ডারগার্টেন সমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নিজেদের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন বৃত্তি পরীক্ষা’ চালু রেখেছে, যেখানে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেন না। ফলে এ দুটো আলাদা ব্যবস্থা—একটি সরকারি, অন্যটি বেসরকারি—যা নিজ নিজ লক্ষ্য ও পরিধির ভেতরেই পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৭(ক) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৯০ সালের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন অনুসারে, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা পালন করছে। সেই দায় থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়, যাতে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার সুযোগ পায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ নীতিমালা এখানে প্রযোজ্য নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়।
সার্বিকভাবে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে, এই বৃত্তি পরীক্ষা কোনো পক্ষকে বঞ্চিত করার জন্য নয় বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রবাহ বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং, এটি বৈষম্যমূলক নয়, বরং একটি লক্ষ্যভিত্তিক ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ।













